মাঠে না নামলে মিলবে না এক টাকাও! মেসির ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিমার আড়ালে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

লিওনেল মেসি—ফুটবল বিশ্বের এমন এক নাম যার বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ কোটি কোটি ভক্ত। কিন্তু এই জাদুর নেপথ্যে যে আর্থিক নিরাপত্তার পাহাড় রয়েছে, তা শুনলে চোখ কপালে উঠবে যে কারও। জানা গেছে, মেসির দুই পায়ের জন্য রয়েছে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ১০০ কোটি টাকার এক বিশাল বিমা।

তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার রাস্তা মোটেও সহজ নয়। বিমা সংস্থার চুক্তিতে লুকিয়ে আছে এক বিশেষ শর্ত।

শর্ত কী? বিমা সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, মেসি এই মোটা অঙ্কের বিমার টাকা দাবি করতে পারবেন কেবল তখনই, যদি তিনি মাঠের লড়াইয়ে থাকেন। অর্থাৎ, ক্লাব (ইন্টার মায়ামি) কিংবা জাতীয় দলের (আর্জেন্টিনা) হয়ে খেলার সময় কোনো দুর্ঘটনা বা ইনজুরি ঘটলে তবেই এই বিমার সুবিধা কার্যকর হবে। মাঠের বাইরে অন্য কোনো কারণে সমস্যা হলে এই অর্থের কানাকড়িও মিলবে না।

কীভাবে নির্ধারিত হয় এই বিমার অঙ্ক? একজন বিশ্বসেরা অ্যাথলেটের বিমার মূল্য মূলত নির্ভর করে তার বার্ষিক বেতন, স্পনসরশিপ এবং ‘ইমেজ রাইটস’-এর ওপর। মেসির বিশ্বজোড়া খ্যাতি এবং আয়ের কথা মাথায় রেখেই বিমা সংস্থাগুলি এই আকাশচুম্বী দায়ভার গ্রহণ করেছে।

বিশাল প্রিমিয়ামের অঙ্ক: সাধারণত স্পোর্টস ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম হয় মোট বিমার ০.৮ শতাংশ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে। যদি মেসির বিমার মূল্য ৯০০ মিলিয়ন ডলার ধরা হয়, তবে ১ শতাংশ হারেও বছরে তাকে প্রিমিয়াম গুনতে হয় প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮১ কোটি টাকা! খেলাধুলার ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের শরীরের নিরাপত্তার জন্য এত বিপুল বিনিয়োগ সত্যিই নজিরবিহীন। ফুটবল প্রেমীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—মাঠের খেলায় ঝুঁকি কমাতে বিমা সংস্থাগুলো আর কী কী কড়াকড়ি আরোপ করেছে মহাতারকার ওপর?