“আমার কোনো ক্রেডিট কার্ড নেই!” বেকারত্ব নিয়ে মোক্ষম চাল মমতার, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

বাংলার মুকুটে নয়া পালক! জাতীয় গড়কে পেছনে ফেলে বেকারত্ব হ্রাসে নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ। বুধবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) সম্মেলনে যোগ দিয়ে বিরোধীদের কড়া ভাষায় জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র সরকারের নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বাংলায় বেকারত্ব কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
নীতির রিপোর্টে বাজিমাত: রাজ্যের প্রগতির খতিয়ান
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ২০২২-২৩ সালের নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলায় বেকারত্বের হার মাত্র ২.২ শতাংশ, যা সারা দেশের গড়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। মমতা বলেন, “অনেকে শুধু আমাদের বদনাম করে, কিন্তু সরকারি তথ্যই বলছে আমরা এগিয়ে। এই সাফল্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপতিদের।” তিনি আরও জানান, রাজ্যের রফতানি দ্বিগুণ বেড়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
“বাংলাই বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার”: ভৌগোলিক কৌশলে জোর
বাংলার ব্যবসায়ীদের অর্থনীতির ‘চালিকাশক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা থেকেই প্রকৃত ব্যবসা করা সম্ভব। আমাদের একপাশে উত্তর-পূর্ব ভারত, অন্যপাশে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান। এছাড়া প্রতিবেশী রাজ্য তো আছেই। বাংলা হল বাণিজ্যের আসল গেটওয়ে।”
অর্থনীতির মেরুদণ্ড যখন পাড়ার মুদি দোকান
শপিং মলের যুগেও অসংগঠিত ক্ষেত্রের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
MSME সেক্টর: বর্তমানে রাজ্যে ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ এই ক্ষেত্রে কর্মরত।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী: প্রায় দেড় কোটি মানুষ (মূলত মহিলারা) ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: রাজ্যে প্রায় ৬৫ লক্ষ ছোট ব্যবসায়ী রয়েছেন। মমতার কথায়, “হুট করে বাড়িতে অতিথি এলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট নয়, পাড়ার মুদি দোকানই ভরসা। আপনারাই বাংলার অর্থনীতির আসল মেরুদণ্ড।”
নোটবন্দি নিয়ে তোপ ও কার্ডহীন জীবন
নগদহীন অর্থনীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন ফের সরব হন। তিনি বলেন, “হাতে পয়সা না থাকলে অর্থনীতি চলে না।” নিজের জীবনযাত্রার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, তাঁর নিজের কোনো ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নেই এবং তার প্রয়োজনও পড়ে না। সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা থাকলেই অর্থনীতি সচল থাকে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলার কৃষ্টি ও GI ট্যাগের সাফল্য
বাংলার নিজস্ব পণ্যের বিশ্বজয় নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দার্জিলিং চা থেকে জয়নগরের মোয়া—রাজ্যের ৩৬টি পণ্য ইতিমধ্যেই GI স্বীকৃতি পেয়েছে। মমতা বলেন, “আমাদের যা কৃষ্টি, তাতে ৩,৬০০টি পণ্য এই তকমা পাওয়ার যোগ্য।”
পরিশেষে: কৃষি, শিল্প ও পরিকাঠামো—তিন বিভাগেই বাংলা যে জাতীয় গড়ের উপরে, তা পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝিয়ে দেন তিনি। বড়দিন ও নতুন বছরের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে সম্প্রীতির বার্তায় শেষ করেন তাঁর ভাষণ।