সমুদ্রের অতলে ভারতের নয়া ‘ব্রহ্মাস্ত্র’! জার্মানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ৬টি ঘাতক সাবমেরিন গড়ছে মাজাগাঁও ডক

ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান দাপট রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে ভারতীয় নৌবাহিনী। সমুদ্রের নিচে ভারতের রণকৌশলগত শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ৯০ হাজার কোটি টাকার এক মেগা প্রজেক্টে সিলমোহর দিতে চলেছে। ভারতের মাজাগাঁও ডকইয়ার্ড লিমিটেড (MDL) এবং জার্মানির থাইসেন ক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS) যৌথভাবে তৈরি করবে ৬টি অত্যাধুনিক সাবমেরিন।
কেন এই সাবমেরিন এত দামি? ২০১৯ সালে এই প্রকল্পের বাজেট ছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটিতে। এই আকাশছোঁয়া দামের পিছনে রয়েছে অত্যাধুনিক AIP (Air Independent Propulsion) প্রযুক্তি।
কেন এটি বিশেষ? সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জ করার জন্য বারবার জলের উপরে আসতে হয়, যা শত্রুর রাডারে ধরা পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু AIP প্রযুক্তি থাকলে এই সাবমেরিনগুলি অক্সিজেন ছাড়াই টানা কয়েক সপ্তাহ জলের গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারবে। এটি কার্যত একটি ‘অদৃশ্য’ ঘাতক হিসেবে কাজ করবে।
অপেক্ষার প্রহর ও স্বদেশি ছোঁয়া: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগামী ৪ মাসের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে প্রথম সাবমেরিনটি হাতে পেতে ২০৩২ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শুরুতে এই সাবমেরিনগুলিতে ৪৫% দেশীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে, যা ভবিষ্যতে ৬০%-এ নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ভারতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ: ১. নতুন ডিজাইন: সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে এই সাবমেরিন তৈরি হবে, যা প্রযুক্তিগতভাবে বেশ জটিল। ২. সময়সীমা: মাত্র ৭ বছরের মধ্যে এমন অত্যাধুনিক সাবমেরিন ডেলিভারি দেওয়া কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল। ৩. একক বিডার: লারসন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ায় মাজাগাঁও ডকই একমাত্র বিডার হিসেবে থেকে গিয়েছে, ফলে দাম যাচাইয়ের প্রতিযোগিতা কমেছে।
চিন-পাক মোকাবিলায় অপরিহার্য: চিন ও পাকিস্তান যেভাবে তাদের নৌবহর শক্তিশালী করছে, তার মোকাবিলায় ভারতের কাছে এই সাবমেরিনগুলি এখন ‘অপরিহার্য’। খরচ বাড়লেও দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয় দিল্লি। এখন শুধু চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষা।