ছেলে আছে তো মায়ের নেই! SIR-এর খসড়া তালিকায় পরিবারের বহু সদস্যের নাম বাদ, বাঁশদ্রোণীতে ক্ষোভে ফুঁসছে একাধিক পরিবার

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় চূড়ান্ত বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বাঁশদ্রোণীর কংগ্রেস নগরের নিরঞ্জন পল্লীতে। নির্বাচন কমিশন বাদ যাওয়া নামের যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে এই পল্লীর একাধিক বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নামে অদ্ভুত বৈপরীত্য ধরা পড়েছে। কোথাও বাবা-মায়ের নাম থাকলেও ছেলের নাম নেই, আবার কোথাও ছেলের নাম থাকলেও মায়ের নাম বাদ গিয়েছে।

১১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৭ নম্বর পার্টে প্রায় ৯৭ জনের নাম এই তালিকায় এসেছে। এই এলাকার বাসিন্দাদের একটাই প্রশ্ন— সঠিক তথ্য দিয়ে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার পরেও কেন এই বিভেদ?

‘আমি বাংলাদেশি নই, তবুও বাদ পড়লাম কেন?’
নিরঞ্জন পল্লীর বাসিন্দা সোমনাথ মিত্র এই বাদ যাওয়া তালিকায় নিজের নাম দেখে রীতিমতো হতাশ। তিনি বলেন,

“আমি বাংলাদেশি নই। আমার বাবা এবং মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল। সঠিকভাবে ত্রুটিহীন ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার পরেও আমি বাদ পড়লাম কিভাবে?”

তাঁর পরিবারের নথিপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও নাম বাতিলের এই ঘটনায় তিনি অত্যন্ত মর্মাহত।

নথি থাকা সত্ত্বেও মায়ের নাম বাদ: আতঙ্কিত পরিবার
ওই পার্টেরই বাসিন্দা চন্দন মিত্র। বাদ পড়া তালিকায় তাঁর মা শিপ্রা মিত্রের নাম ঠাঁই পেয়েছে। চন্দন মিত্র বলেন,

“২০০২ তালিকায় মায়ের নাম ছিল। বাবার নামও ছিল। সব নথিপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পরেও কেন মায়ের নাম বাদ দেওয়া তালিকার মধ্যে রয়ে গেল, সেটা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। এভাবে নাম বাতিল তালিকায় চলে যাবে, তা কখনওই বুঝতে পারিনি।”

তাঁরা শুনানির নোটিস পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

‘২০২৪ লোকসভাতেও ভোট দিয়েছে’, প্রশ্ন বণিক পরিবারের
একই পাড়ায় বসবাসকারী বণিক পদবির একাধিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। সমীরন বণিকের মা শিপ্রা বণিক আতঙ্কিত এবং ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন,

“আমার বাবা-মায়ের নাম রয়েছে ২০০২ তালিকায়। তারপরেও ছেলের নাম বাদ দেওয়া হল কোন সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি করে? ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছে আমার ছেলে। তাহলে এবার কিভাবে বাদ পড়ে গেল?”

তিনি সাফ জানান, শুনানিতে যতবার ডাকবে ততবার যাবেন, কিন্তু ছেলের নাম যেন দ্রুত তালিকায় তোলা হয়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কেশৰ বণিকও তাঁর স্ত্রী অনিতা বণিকের নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ওই ভিড়ে থাকা এক বৃদ্ধের ছেলে সজল বণিকেরও নাম বাদ পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর নাম ২০০২ সালের তালিকায় থাকলে, ছেলের নাম বাদ যাবে কেন?

প্রায় ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা সবিতা সাহার নামও বাদ যাওয়া তালিকায় রয়েছে। তিনি বিগত প্রায় সব নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন, তবুও নাম বাদ যাওয়ায় বিস্মিত। উদ্বেগের সঙ্গে তিনি বলেন, “এবার কতবার শুনানিতে হাজির হতে হবে জানি না।” সব মিলিয়ে, গোটা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাপানউতোর বাড়ছে।