‘এটা কি কোনও অভিশাপ?’ মেসিকে দেখতে না পাওয়ার ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বললেন অভিনেতা, তবে মেসির চেয়ে এগিয়ে রাখলেন এই ভারতীয়কে

শনিবার যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনভিপ্রেত ঘটনা নিয়ে চর্চা এখনও অব্যাহত। দর্শকদের ক্ষোভ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই মঙ্গলবার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস তাঁর পদ থেকে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যে, যুবভারতী কাণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি চান। মুখ্যমন্ত্রী বর্তমানে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছেন।

ক্রীড়ার পাশাপাশি বাংলার বিনোদন জগতেও অরূপ বিশ্বাসের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। টলিপাড়ার বহু তারকাদের মতো অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্তের কাছেও তিনি অত্যন্ত ‘কাছের মানুষ’। ক্রীড়ামন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তে কী প্রতিক্রিয়া জানালেন এই অভিনেতা?

‘অনেক সম্মান পেয়েছি’, অরূপের সিদ্ধান্তে বিস্মিত দিব্যজ্যোতি
আজকাল ডট ইন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা দিব্যজ্যোতি দত্ত বলেন, “ঠিক কেন এই সিদ্ধান্ত আমি বলতে পারব না। তবে আমি অনেক সাহায্য পেয়েছি। আমি অনেকের চেয়ে জুনিয়র। আমার ইন্ডাস্ট্রিতে বেশিদিন হয়নি। এই অল্প দিনে আমায় নবান্ন থেকে কার্ড হোক কিংবা অরূপ দা-র অফিস থেকে, সবসময়ে খুবই সম্মান পেয়েছি।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক যথেষ্ট আন্তরিক।

‘এটা কি কোনো অভিশাপ?’
যুবভারতী স্টেডিয়ামে দর্শকদের ভাঙচুর এবং বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন দিব্যজ্যোতি। তিনি জানান, হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও ফুটবলের রাজপুত্রকে দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপে জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, যা সত্যি খারাপ লেগেছে তাঁর। অভিনেতার কথায়, “যারা টিকিট কেটে এসে মেসিকে দেখতে পাননি, আমারও খারাপ লেগেছে। আমারও দু’এক জন বন্ধু গিয়ে নিরাশ হয়েছে। আসলে শুরু থেকেই বোধহয় বিষয়টাতে সমস্যা ছিল।” অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “এর আগে ২০১১ সালে মেসি এসেছিল। তখনও টিএমসি ছিল, এখনও আছে। কেন যে হয়েছে। এটা কি কোনও অভিশাপ?”

মেসির চেয়ে এগিয়ে সুনীল ছেত্রী
দিব্যজ্যোতি দত্ত কি মেসির ভক্ত? এই প্রশ্নের জবাবে অভিনেতা স্পষ্ট জানান, মেসি স্বপ্নের মতো হলেও তাঁর কাছে দেশের ফুটবলার সুনীল ছেত্রী এগিয়ে। তিনি বলেন, “আমি ফুটবল খুব বেশি বুঝি না। আমি ক্রিকেট ভাল খেলি। আমার দেশ আমার কাছে এগিয়ে। আমি আমার দেশকে দেখতে চাই। সুনীল ছেত্রীর নাম বিশ্বে ৩ নং আছে।” এর মাধ্যমে তিনি দেশের খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর সমর্থন ও দেশপ্রেমের কথাই তুলে ধরলেন।