যুবভারতী কাণ্ড, মেসি-অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ রাজ্যপালের, ডিজি-কে শোকজ, ইস্তফা চেয়ে চিঠি অরূপ বিশ্বাসের

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট ক্রমশ গভীর হচ্ছে। এই ঘটনায় এবার কঠোর বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের তরফেও একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যপালের উদ্বেগ ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা লঙ্ঘন

রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মেসির অনুষ্ঠানে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ভিভিআইপি (VVIP) এবং ভিআইপি (VIP)-রা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে মেসির কাছে পৌঁছে যান, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” এই ঘটনায় রাজ্যের দুই মন্ত্রী—অরূপ বিশ্বাস (ক্রীড়ামন্ত্রী) ও সুজিত বসুর (দমকল মন্ত্রী) নাম উঠে আসায় প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনের শীর্ষস্তরে শোকজ

ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে একাধিক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস জারি করেছে রাজ্য সরকার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্য পুলিশের ডিজি (Director General of Police) রাজীব কুমারকেও শোকজ করা হয়েছে এবং তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব তলব করেছে নবান্ন। এই ঘটনা প্রশাসনের শীর্ষস্তর পর্যন্ত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছে।

অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার ইচ্ছা

রাজ্যপালের মন্তব্যের পরেই বিতর্কের মুখে পড়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জানান, “নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে অব্যাহতি চাইছি।” তাঁর এই পদক্ষেপকে অনেকেই নৈতিক দায়িত্বের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

সূত্রের খবর, অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গৃহীত হয়নি। বর্তমানে তদন্ত চলাকালীন ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব নিজেই হাতে রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সব মিলিয়ে যুবভারতী কাণ্ড এখন প্রশাসনিক দায়িত্ব, রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং স্বচ্ছতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্ট, জনস্বার্থে তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।