মনরেগা বাতিল করে ‘ভিবি-জি রাম জি’ বিল, এনডিএ-র শরিক টিডিপি-ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, ৬০:৪০ অর্থায়ন অনুপাত নিয়ে উদ্বেগ

কেন্দ্রীয় এনডিএ সরকার গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) বাতিল করে যে নতুন ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ (VB-G Ram G) বিল, ২০২৫ প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে, এবার তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে জোটের অন্যতম প্রধান শরিক তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থসংস্থানযোগ্য প্রকল্পের ব্যয় রাজ্যগুলির উপর চাপানোর পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তুষ্ট অন্ধ্রপ্রদেশের শাসক দল।টিডিপি-র উদ্বেগ:এনডিএ-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক টিডিপি, যার প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, প্রস্তাবিত ৬০:৪০ তহবিল ভাগাভাগির অনুপাত নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে এমজিএনআরইজিএ-এর অধীনে এই অনুপাত ছিল ৯০:১০ (উপাদান ও মজুরি)। টিডিপি-র সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, এই নতুন পদ্ধতি অন্ধ্রপ্রদেশের মতো আর্থিকভাবে সংকটে থাকা রাজ্যের উপর “স্পষ্ট বোঝা চাপিয়ে দেবে”। টিডিপি চায় বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হোক।বিরোধীদের মূল অভিযোগ:মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ: কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন যে মোদি সরকার মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার জন্য মনরেগার নাম পরিবর্তন করছে।ক্ষমতা খর্ব: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মনরেগা ছিল চাহিদা-ভিত্তিক (Demand-based) প্রকল্প, যেখানে গ্রামসভা কাজের সিদ্ধান্ত নিত। নতুন বিল কার্যকর হলে গ্রাম সভার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব হবে, কারণ এক্ষেত্রে কেন্দ্র আগে থেকে ফান্ড বরাদ্দ করে দেবে।অর্থনৈতিক বোঝা: সি পি আই (এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি বলেছেন, “দায়িত্ব এখন রাজ্যগুলোর উপর চাপানো হচ্ছে, এবং কেন্দ্র এখন বরাদ্দ কমিয়ে বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলোকে শাস্তি দিতে পারবে।”নতুন ‘ভিবি-জি রাম জি’ বিলের মূল পার্থক্য:বৈশিষ্ট্যMGNREGA (বর্তমান)VB-G Ram G (প্রস্তাবিত)তহবিল অনুপাত (কেন্দ্র:রাজ্য)মজুরি ও উপাদানের জন্য ৯০:১০৬০:৪০ (সাধারণ রাজ্যগুলির জন্য)পাহাড়ি/বিশেষ রাজ্যের অনুপাত৯০:১০ (একই থাকবে)৯০:১০ (একই থাকবে)কাজের দিন১০০ দিন১২৫ দিনপ্রকল্পের ধরণচাহিদা-ভিত্তিক (Demand-based); নির্দিষ্ট বাজেট নেইবাজেট-ভিত্তিক (Budget-based); কেন্দ্র থেকে আগে থেকে বরাদ্দ করা হবেকৃষি মরশুমে স্থগিতসংস্থান নেইকৃষিকাজের ভরা মরশুমে দু’মাসের জন্য স্থগিতের প্রস্তাববিজেপি-র সাফাই:বিজেপি তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেছে যে, এটি কেবল নতুন নামকরণ নয়, বরং “এমএনআরইজিএ-তে কাঠামোগত স্তরে ত্রুটি ছিল,” তাই একটি পরিচ্ছন্ন ও শক্তিশালী কাঠামো তৈরির জন্য এটি প্রয়োজনীয় আইনি পুনর্গঠন। তারা আরও দাবি করেছে যে, চাকরির নিশ্চয়তা “দুর্বল করা হয়নি, বরং পোক্ত করা হয়েছে”, কারণ কাজের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।এনডিএ-র প্রধান মিত্র টিডিপি-র এই উদ্বেগ সরকারকে বিলটি বিতর্কের জন্য কমিটিতে পাঠানোর কথা বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।