অরূপের ইস্তফার পর ক্রীড়াদফতর হাতে মমতাকে ‘বিষ্ণুমাতা’ বলে কটাক্ষ তরুণজ্যোতি তিওয়ারির, “উনি অলরাউন্ডার”

ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ইস্তফার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যখন নিজের হাতে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব নিয়েছেন, ঠিক তখনই তীব্র রাজনৈতিক কটাক্ষের শিকার হয়েছেন তিনি। বিজেপি নেতা এবং আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বিষ্ণুমাতা’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। তাঁর মতে, মমতা একজন ‘অলরাউন্ডার’, যিনি ক্রিকেট-ফুটবল থেকে শুরু করে ‘চাকরি চুরি’ পর্যন্ত সমস্ত বিষয়েই পটু।

‘বিষ্ণুমাতা’ ও ‘অলরাউন্ডার’ মমতা

তরুণজ্যোতি তিওয়ারি (Tarunjyoti Tiwari) ব্যঙ্গাত্মক সুরে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ পরিচয়ের তালিকা টেনে এনেছেন। তিনি বলেছেন, “মমতা শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানই নন, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময় কর্ত্রী, সাতবারের সাংসদ, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও চিত্রশিল্পী।” এই দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে বিজেপি নেতা স্পষ্টতই বোঝাতে চেয়েছেন যে একজন মানুষের হাতে এত ক্ষমতা ও দফতর কেন্দ্রীভূত হওয়া রাজ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তাঁর পোস্টে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অলরাউন্ডার’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, সাংসদদের ক্রিকেট ম্যাচে পুরুষ ও মহিলা সাংসদদের ভিড়েও নাকি মুখ্যমন্ত্রী ‘ম্যাচের সেরা’ হয়েছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাডমিন্টন কোর্টে র‍্যাকেট হাতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপি নেতার ব্যঙ্গাত্মক দাবি, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি সব খেলাতেই নাকি তাঁর দারুণ দখল রয়েছে।

যুব কল্যাণ ও দুর্নীতির অভিযোগ

তবে সবচেয়ে তীব্র কটাক্ষ এসেছে দুর্নীতি এবং যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব নেওয়া প্রসঙ্গে। তরুণজ্যোতি তিওয়ারির বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু খেলাধুলা বা প্রশাসনই বোঝেন না, তিনি নাকি জানেন “কিভাবে চাকরি চুরি করতে হয় এবং বেলাগাম দুর্নীতি চালাতে হয়।”

যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে নেওয়ায় তরুণজ্যোতি আরও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যে মুখ্যমন্ত্রীর আমলে যুবসমাজ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়, এবং শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা চাকরির দাবিতে নিয়মিত রাস্তায় নামলে পুলিশি লাঠিচার্জের শিকার হন, তাঁর হাতেই যুব কল্যাণ দফতরের দায়িত্ব থাকা রাজ্যের ক্ষতি ছাড়া আর কিছু নয়।

যদিও এই তীব্র কটাক্ষের মুখে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘রাজ ধর্ম’ পালন করছেন এবং তাঁর এই পদক্ষেপ রাজ্যের মানুষকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।