মাইনাস ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রা, ১৩০ কিমি বেগে বাতাস! ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের লক্ষ্যে ‘মৃত্যুফাঁদ’ মাকালু জয়ে যাচ্ছেন পিয়ালী বসাক

নতুন বিশ্ব রেকর্ডের স্বপ্ন নিয়ে ফের মাকালু জয়ের অভিযানে বের হচ্ছেন হুগলির চন্দননগরের বাসিন্দা পর্বতারোহী পিয়ালী বসাক। ১৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে তাঁর এই দুঃসাহসিক অভিযান। কাল তিনি চন্দননগরের বাড়ি থেকে রওনা দেবেন মাকালু বেসক্যাম্পের উদ্দেশে। তাঁর লক্ষ্য—প্রথম মহিলা হিসেবে চরম প্রতিকূল আবহাওয়ায় শীতকালে (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে) মাকালু শৃঙ্গ জয় করা।
এর আগে একবার মাকালু জয় করেছিলেন পিয়ালী বসাক। ২০২৩ সালের ১৭ মে তিনি সেই অভিযান সফল করেন। কিন্তু সেবারের পরিবেশ শীতকালের মতো কঠিন ছিল না। তাই এবার মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেই তিনি মাকালুর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
অসাধ্য সাধনের প্রস্তুতি:
আবহাওয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, শীতকালে মাকালুতে তাপমাত্রা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে এবং প্রতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস বইতে পারে। পিয়ালী বসাকের কথায়, এই সময়ে বেসক্যাম্প পৌঁছাতেই কোমরসমান বরফ পার করতে হবে। কঠিন বরফের দেওয়াল, পাথরের দেওয়াল ও মাঝে মাঝে ফাটল থাকে। ঝড় ও কুয়াশা এলে এক ফুট দূর পর্যন্তও কিছু দেখা যায় না। পিঠে ১৪ থেকে ১৫ কেজি ওজনের ভারী ব্যাগ নিয়ে এই অভিযান চালাতে হয়।
পিয়ালী বলেন, “সারা পৃথিবী থেকে দু’জন পুরুষ (একজন ইতালি ও একজন রাশিয়ার) এই সময় মাকালু শৃঙ্গ জয় করেছেন। তাঁরা দুজনেই পৃথিবী বিখ্যাত পর্বতারোহী। তাই আমিও চাই মহিলা পর্বতারোহী হয়ে ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করার।”
এর আগে এভারেস্ট, লোৎসে, ধওলাগিরি, অন্নপূর্ণা-সহ ৬টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করেছেন হুগলির কানাইলাল বিদ্যামন্দিরের এই শিক্ষিকা। তিনি জানান, এভারেস্ট, লোৎসের মতো ২৯ হাজার ফুটের ঊর্ধ্বে থাকা শৃঙ্গগুলিতেও তিনি তুষারঝড়ের মধ্যে অভিযান করে সফল হয়েছেন। “আশা করি এই অভিজ্ঞতার জোরেই এই শীতকালীন মাকালু পর্বত শৃঙ্গ জয় করতে পারব।”—তাঁর আত্মবিশ্বাসী উক্তি।
ঋণ ও আর্থিক সহায়তার আবেদন:
বারবার প্রতিকূল পরিবেশে পর্বত জয়ের নেশার কারণে পিয়ালী বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত। এর আগের ছ’টি অভিযানের খরচ তিনি ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে করেছিলেন। পিয়ালী বলেন, “আমার ইতিমধ্যেই ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে ব্যাঙ্কে। বর্তমানে এই মাকালু জয়ের জন্য আমার বাড়ি বন্ধক দিয়ে ঋণ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় স্পনসরের জন্য যোগাযোগ করছি। আশা করি এই পর্বত শৃঙ্গ জয়ে মানুষই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।”