‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান তোলা ভারত-বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ, আতঙ্ক ইউনুস প্রশাসনে; প্রেস সচিবের পরিবার উদ্বিগ্ন

বাংলাদেশে গত ১২ ডিসেম্বর কট্টর ভারত-বিরোধী ছাত্র নেতা ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই ইউনুস প্রশাসনের কর্তা এবং ন্যাশনালিস্ট কাউন্সিলে (NCP)-এর নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম-এর নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

পরিবার উদ্বিগ্ন, শফিকুল অবিচল:

শফিকুল আলম নিজে দাবি করেছেন যে তিনি এই ঘটনায় ভীত নন। তবে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইবোনরা তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা শফিকুলকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং সংযত থাকতে অনুরোধ করেছেন।

শফিকুল আলম একটি ফেসবুক পোস্টে ওসমান হাদির ওপর হামলার বিষয়ে লেখেন:

“আমি যেখানেই যাই, সেখানেই লাখ লাখ হাদিকে দেখতে পাই। বাংলার কসাই হাসিনা কতজনকে হত্যা করতে পারবে? এই প্রজন্মের কোটি কোটি হাদি যতক্ষণ তাদের অবস্থানে অনড় থাকবে, ততদিন আমার ভয় পাওয়ার বা আশাহত হওয়ার কোনও কারণ দেখি না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘বিদেশি শক্তি’ নাকি বাংলাদেশকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “শক্তিশালী দেশি ও বিদেশি শক্তি সাময়িকভাবে ইঞ্জিন বিকল করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এ তরুণরা ভয় পায় না। তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেই।” তবে শফিকুল পোস্টে কোনো নির্দিষ্ট ‘বিদেশি শক্তি’র নাম উল্লেখ করেননি।

ওসমান হাদির বিতর্কিত প্রোফাইল:

গুলিবিদ্ধ হওয়া ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের নির্দল প্রার্থী হতে চলেছিলেন। হাসিনা সরকারের পতনের পর একাধিক জনসভায় তিনি ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান তুলেছিলেন।

বিকৃত মানচিত্র বিতর্ক: গুলিবিদ্ধ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ওসমান হাদি ফেসবুকে ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন। আলোচনা সভার সেই পোস্টে ভারতের থেকে পাঞ্জাব, লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করে সেগুলিকে পাকিস্তানের এলাকা হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

তদুপরি, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের অধিকাংশ এলাকা, গোটা ঝাড়খণ্ড, উত্তরপূর্ব ভারত এবং মায়ানমারের আরাকান প্রদেশের উপকূলীয় এলাকাটিকে ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’-এর অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

রাজনৈতিক তরজা ও ইউনুসের হস্তক্ষেপ:

ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর বোন মাহফুজা এবং এনসিপি নেতা সারজিস আলম সরাসরি ভারতের ‘র’ (R&AW) বা ভারত-বিরোধী মনোভাবকে হামলার কারণ হিসেবে ইঙ্গিত দেন।

এদিকে, এই প্রাণঘাতী হামলার পর তা নিয়ে জামাতের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল বিএনপি, যা নিয়ে পালটা ক্ষেপেছে জামাত। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল থামাতে ইউনুস একটি বৈঠক করেন। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বৈঠকে বলেন, দলগুলোর টানাপোড়েনে “আমরা জুলাই বিপ্লবকে শেষ করে দিচ্ছি।” ইউনুস দলগুলিকে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে বারণ করলেও, প্রেস উইং জানিয়েছে দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। তবে সেই বৈঠকের পরও একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগা অব্যাহত রেখেছে দলগুলি।