সাইবার প্রতারণার আগে প্রতিরোধ, ‘সাইবার সেফ ভিলেজ’ গড়তে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী থানায় খুলল বিশেষ সেল

বর্তমানে সাইবার প্রতারণা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার গ্রামের সাধারণ মানুষকে এই ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা। ‘সাইবার সেফ ভিলেজ’ অর্থাৎ সাইবার প্রতারণামুক্ত গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার অমিত কুমার সাউয়ের উদ্যোগে সাগরদিঘী থানায় খোলা হলো একটি বিশেষ ‘সাইবার সেল’।
গ্রামের মানুষের জন্য সুবিধা: সাগরদিঘীর মানুষকে এখন আর সাইবার প্রতারণা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ জানাতে রঘুনাথগঞ্জে সাইবার ক্রাইম অফিসে যেতে হবে না। সাগরদিঘী থানাতেই এই সেল কাজ করবে।
সেবার পরিধি: সাইবার প্রতারণা ছাড়াও মোবাইল হারিয়ে যাওয়ার মতো অভিযোগগুলোও এখন দেখবে এই বিশেষ সেল। তবে বড় কোনো সাইবার অপরাধ হলে সেটি পুলিশ জেলার হেডকোয়ার্টার্স দেখবে।
প্রতিরোধের ওপর জোর: পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল লেনদেন শুরু হওয়ায় শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষজনও অনলাইন কেনাকাটার প্রলোভন, লটারি জেতা বা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন।
তাঁর মূল মন্ত্র:
“প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর। অর্থাৎ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা ভালো। তাই গ্রামের মানুষ যাতে সাইবার প্রতারণার ফাঁদে পা না দেন, তাই তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”
সচেতনতা কর্মসূচির পরিকল্পনা: এই লক্ষ্যে পুলিশ প্রথমে সাগরদিঘীর একটি নির্দিষ্ট গ্রামকে বেছে নিয়েছে। এই গ্রাম থেকেই সাধারণ মানুষকে সাইবার সচেতনতার পাঠ দেওয়া শুরু হবে।
লক্ষ্য: পুলিশ সুপারের লক্ষ্য হলো, এই গ্রামের একটিও মানুষ যাতে কোনোভাবে সাইবার প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: এইভাবে আগামী দিনে সাগরদিঘি এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত প্রত্যেকটি গ্রামেই এই সচেতনতা শিবির চালানো হবে।
জঙ্গিপুর পুলিশের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—আগামী দিনে এই পুলিশ জেলার সমস্ত গ্রামকে ‘সাইবার সেফ’ হিসেবে গড়ে তোলা।