SIR ইস্যুতে এবার সরাসরি অমিত শাহকে নিশানা মমতার! ”স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দু’চোখ দেখলেই মনে হয় ভয়ঙ্কর,” কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর।

পশ্চিমবঙ্গে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগে ভোটার তালিকার স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণনগরের জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) সরাসরি একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
অমিত শাহকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন:
”এসআইআর করে বাংলা থেকে মানুষকে তাড়িয়ে দিলে কী করে নিয়ে আসতে হয় আমরা জানি। বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব কিছু করতে পারেন, তাঁর দু চোখ দেখলেই মনে হয় ভয়ঙ্কর।”
বুধবার সংসদে অমিত শাহ এবং বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— দু’জনেই বিহারের ভোটের ফলের প্রসঙ্গ টেনে পরস্পরকে আক্রমণ শানালেন, যা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
DM-দের উপর চাপ ও দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিজেপি চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিস্ফোরক দাবি:
”দিল্লি থেকে বিজেপি মার্কা কিছু লোককে পাঠানো হচ্ছে DM-দের মাথার উপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য। বলছে দেড় কোটি নাম বাদ দিতে হবে। যদি সত্যিই সত্যিই নাম কেটে দেওয়া হয়, তাহলে ধর্না দেবেন। না না তোলা পর্যন্ত ধর্না চালিয়ে যাবেন।”
তিনি আরও বলেন, ডিএম এবং বিডিও-দের ভয় দেখানো হচ্ছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের মেয়াদ ২৯ তারিখের (সম্ভবত ২৯ ডিসেম্বর SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সময়কাল) মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
SIR-কে ‘চালাকি’ আখ্যা এবং NRC-এর আশঙ্কা
এর আগেও এই SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রের চালাকি বলে খোঁচা দিয়েছিলেন মমতা। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি SIR প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে না হয়, তবে বিজেপি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে নির্বাচন করানোর ফন্দি করতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:
”বিজেপির হাতে রাজ্য গেলে বাংলাটা শেষ হয়ে যাবে। আপনার অস্তিত্ব থাকবে না। আপনার ভাষা থাকবে না। আপনার সম্মান থাকবে না। বাংলাটা ডিটেনশন ক্যাম্পে পরিণত হয়ে যাবে। আমরা এনআরসি করতে দেব না। নিশ্চিন্তে থাকুন, এখানে কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। ডবল ইঞ্জিন সরকার উত্তরপ্রদেশে চালু করে দিয়েছে ডিটেনশন ক্যাম্প, আসামে ডিটেনশন ক্যাম্প।”
তিনি তাঁর সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন্দ্র নির্বাচন ঘোষণা করে দিতে পারে, যাতে কেউ আদালতে যাওয়ার সুযোগ না পান।