লাইভে আত্মহত্যা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের, স্ত্রীর অভিযোগে নাম জড়াল অপর কনটেন্ট ক্রিয়েটরের; চাঞ্চল্য মালদহে

মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত মোবারকপুর গ্রামের কালীতলা এলাকায় গত ৬ ডিসেম্বর এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের চরম পদক্ষেপের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী দুর্লভ সাহা, যিনি পেশায় একটি কোম্পানির সেলসম্যান ছিলেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও চালিয়ে সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর, দুর্লভের স্ত্রী মৌসুমি সাহা এই ঘটনার জন্য ওই এলাকারই আরেক মহিলা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমা সরকারকে দায়ী করে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মৌন থাকার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত সালমা।
স্বামীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ চাওয়ার পালটা অভিযোগ
মৌসুমি সাহা জানান, বছরখানেক আগে দুর্লভ স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমা সরকারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “মাসখানেক আগে আমার স্বামী নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। কিন্তু সালমা সেটি মেনে নিতে পারেনি। সে আমার স্বামীকে ব্ল্যাকমেইল করে যাচ্ছিল এবং ওদের ঘনিষ্ঠ ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল। ওই মেয়ে আমার স্বামীর কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল।” মৌসুমির দাবি, সালমার ব্ল্যাকমেইলিং-এর চাপেই দুর্লভ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
দুর্লভের মৃত্যুর পর মৌসুমি সালমা সরকারের কঠোর শাস্তি দাবি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
‘আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে’, পালটা দাবি অভিযুক্তের
এতদিন মৌন থাকার পর, অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমা সরকার অবশেষে মুখ খুলেছেন। তিনি দুর্লভের স্ত্রীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সালমার বক্তব্য, “আমাকে বদনাম করতেই মৌসুমি সাহা এই মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। আমরা দু’জনেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর; এনিয়েই দুর্লভের সঙ্গে আমার যতটুকু সম্পর্ক। সেটা ভিডিয়োর জন্যই। ওর সঙ্গে আমার কোনও ঘনিষ্ঠ বা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও নেই।”
সালমা পাল্টা দাবি করেন, দুর্লভ তাঁকে বলেছিলেন যে মৌসুমিই বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য তাঁর কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তিনি বলেন, “এটা চাঁচল ও হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশও জানে। মৌসুমি সাহা টাকার জন্য অন্তত ১৫-২০ বার দুর্লভ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।” সালমার অভিযোগ, মৌসুমি এখন নিজেকে বাঁচাতে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
দুর্লভের মৃত্যু ঘিরে এই বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পুলিশও কিছুটা ধোঁয়াশায়। চাঁচল মহকুমা পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, “গোটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনে মৃতের স্ত্রী ও অভিযুক্ত তরুণীকেও থানায় ডেকে পাঠানো হবে। কিছুদিনের মধ্যেই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ প্রকৃত ঘটনা সামনে নিয়ে আসবে।”