করোনায় বসতবাড়ি বিক্রির পরামর্শ দিয়েছিলেন ছেলে! কীভাবে ইউটিউবে ভাইরাল হলেন ‘বাবু খাবি আয়’ বলা মা ঊষা দেবী?

সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁরা সক্রিয়, তাঁদের কাছে ‘Oldays Kitchen’-এর ঊষা বিষয়ী এক পরিচিত মুখ। আটপৌরে শাড়িতে এই মধ্যবয়স্কা মহিলার নিখুঁত হাতে তৈরি খাঁটি বাঙালি, চাইনিজ, বা মোঘলাই পদ দেখতে ভিড় করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মা ঊষা দেবীর সঙ্গে ভিডিওতে তাঁর ছেলে সুপ্রভকেও দেখা যায়। ঊষাদেবীর স্নেহমাখা কণ্ঠে ‘বাবু খাবি আয়’ শুনে বহু দর্শক নস্টালজিক হয়ে পড়েন। আর খাবার চেখে দেখার পর তাঁর নিজস্ব ঢঙে ‘দারুণ’ বলার ক্যাচলাইনটি তো এখন সুপারহিট!
কিন্তু হঠাৎ কীভাবে এই রান্নার চ্যানেল শুরু করার কথা মাথায় এল মা ও ছেলের? সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে তাঁরা শোনালেন সেই কঠিন সময়ের গল্প। সুপ্রভ জানান, কোভিড লকডাউনের সময় তাঁদের পরিবার বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিল। ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধার-দেনাও বেড়ে গিয়েছিল। সুপ্রভ বলেন, “করোনাটা হয়, তখন ব্যবসা একেবারে বন্ধ। ধার দেনা হয়ে গেছে। রীতিমতো লোক এসে ধমকাচ্ছে টাকার জন্য।”
পরিবারের এমন চরম দুর্দশার সময় ঊষা দেবী জানান, সুপ্রভ তাঁর বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, “এই বাড়িটুকুই তো আছে, তুমি বেঁচে দাও।” ঠিক তখনই তাঁদের ভাগ্য ফেরে একটি আইডিয়াতে। সুপ্রভ স্থির করেন, তিনি তাঁর মায়ের রান্নাকেই সকলের সামনে তুলে ধরবেন।
ঊষা দেবী জানান, ছেলে সুপ্রভ তাঁকে বলেছিলেন, “ও বলে এই যে তুমি রান্না করো, তাঁর সঙ্গে ছড়ার মতো করে দুটো লাইন বলবে। আর রান্না হওয়ার পর, স্বাদ নিয়ে দারুণ বলবে!”
এরপরের পথচলা শুধুই সাফল্যের। মা-ছেলের ভিডিও এখন পোস্ট হতে না হতেই ভাইরাল। বর্তমানে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তাঁদের ফলো করেন ১.৭ মিলিয়ন মানুষ, ইউটিউবে ফলোয়ার্স ৩.৫৫ মিলিয়ন, এবং ইনস্টাগ্রামে ৬ লাখ ১৯ হাজারের বেশি।
ঊষা দেবী আরও জানান, কোনদিন কী রান্না হবে, ভিডিও বানানো, সব কাজই করেন ছেলে সুপ্রভ। পুরনো দিনের রান্না মা নিজের পদ্ধতিতে করলেও, আধুনিক রান্নাগুলো সুপ্রভ নিজেই করেন। পাশাপাশি, সুপ্রভ অত্যন্ত যত্ন করে মাকে শাড়ি পরিয়ে দেন, চুল বেঁধে দেন এবং পরিপাটি করে সাজিয়ে তোলেন। এখন রাস্তায় ঊষাদেবীকে দেখলে মানুষজন বলে ওঠেন, “ওই যে দারুণ যাচ্ছে!” আর ছেলেকে দেখলেই “ওই যে বাবু রে…” বলে ডাকেন।