পার্থের জেলমুক্তির পরই চমক, বিধানসভায় নতুন ইনিংস? কোন কমিটির সদস্য হতে চলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ৩৯ মাস কারাবাসের পর অবশেষে ঘরে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। গত ১১ নভেম্বর হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়ি ফিরলেও, তাঁর জেলমুক্তির খবর বিধানসভায় খাতায়-কলমে পৌঁছতে সময় লাগল প্রায় এক মাস।

জেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো সেই আনুষ্ঠানিক চিঠি বিধানসভায় পৌঁছনোর পরই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দল থেকে সাসপেন্ড হওয়া সত্ত্বেও বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে কি এবার বিধানসভার কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য করা হবে? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতিতে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জেলমুক্তির পর পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুসারে, কোনো বিধায়ক গ্রেফতার হলে বা জেলমুক্ত হলে, জেল কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে তা স্পিকার বা বিধানসভার সচিবালয়কে জানাতে হয়। সংবাদমাধ্যমে খবরটি আগেই প্রকাশ হলেও, সরকারিভাবে নথি পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। দল থেকে সাসপেন্ড থাকার কারণেই এই বিলম্ব কি না, সেই নিয়েও আলোচনা চলছিল। তবে এক মাস পরে চিঠি হাতে পাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে বিধানসভা কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। সাধারণত মন্ত্রী ও বিধায়করা এই কমিটির সদস্য হয়ে থাকেন। কিন্তু ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজ্যের অন্যতম দাপুটে নেতা ও মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও পার্থ কখনও কোনো কমিটির সদস্য ছিলেন না। মন্ত্রিত্ব হারানোর পর এখন তিনি কেবলই একজন বিধায়ক। এই পরিস্থিতিতে, এবারই হয়তো প্রথমবার তাঁকে কোনো স্ট্যান্ডিং কমিটিতে জায়গা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৩৯ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর ২০২৫ সালে শর্তসাপেক্ষ জামিন পান তিনি। আদালতের নির্দেশ মেনে জামিনের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই গত ১১ নভেম্বর তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন।

আপাতত, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ তাঁকে কোন কমিটির দায়িত্ব দেয় এবং আসন্ন অধিবেশনে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর ভূমিকা কী থাকে, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।