শেখ হাসিনাকে কি ফেরত পাঠানো হবে? ভারতের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ বাংলাদেশের!

একাধিক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করল ঢাকা। তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা মহম্মদ তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে দিলেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র ভারতেরই।
বুধবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তৌহিদ হোসেন বলেন, “শেখ হাসিনাকে ঢাকায় ফেরত পাঠাতে আমরা ভারতকে রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাব।”
✋ ‘বিষয়টি হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’: ভারত
এদিকে, গত শনিবারই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে ভারতে এসেছেন এবং তিনি ফিরবেন কিনা তা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত মূলত হাসিনার নিজের।
অন্যদিকে, হাসিনার অন্য কোনও দেশে আশ্রয় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই বলে জানান তৌহিদ হোসেন। তবে তাঁর এই মন্তব্য— হাসিনাকে বাংলাদেশে আনা যাবে কিনা, তা শেষ পর্যন্ত ভারতেরই সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে— এই বিষয়ে নয়াদিল্লির সামনে ঢাকার কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’কেই স্পষ্ট করে দিল।
📅 ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয়
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে আশ্রয় নেন। এরপর ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়। যদিও ভারত এই অনুরোধ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছিল।
🗣️ ‘এটি কারচুপি করা রায়’
ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়া অ-নির্বাচিত সরকার। সেই সরকার গঠিত ও পরিচালিত একটি ‘কারচুপি করা ট্রাইব্যুনাল’ এই রায় দিয়েছে।”
বর্তমানে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ।