স্কুলের ঘরে ডেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানি! বনগাঁর গাঁড়াপোতা স্কুলে অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

স্কুলের ঘরের ভেতরে ডেকে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল বনগাঁর গাঁড়াপোতা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন স্কুলের অস্থায়ী কর্মী সুপ্রভাত সাধু (ডাকনাম ট্যুরে)।

বুধবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্যান্য ছাত্রীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা স্কুল ভবনে ভাঙচুর চালান এবং অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বনগাঁ–বাগদা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কী ঘটেছিল?:

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, এদিন কয়েকজন ছাত্রী তিনতলায় বই জমা দিতে গিয়েছিল। অভিযুক্ত কর্মী সুপ্রভাত সাধু প্রথমে তাদের মধ্যে থেকে একজনকে আলাদা করে বাকিদের জোর করে নিচে পাঠিয়ে দেয়। এরপর সেই ছাত্রীকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে এবং জামা ছিঁড়ে দিয়ে অশালীন আচরণ করে বলে অভিযোগ। হঠাৎ ছাত্রীর চিৎকারে অন্য ছাত্রীরা ছুটে এসে ঘটনাটি দেখে ফেলতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নির্যাতিতা ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলে, “বই জমা দিতে গিয়েছিলাম। দু’জনকে বাইরে পাঠিয়ে আমায় জাপটে ধরে জামা ছিঁড়ে দেয়। খুব ভয় পেয়েছিলাম।”

পুলিশের উপরও ক্ষোভের আঁচ:

খবর পেয়ে অন্যান্য ছাত্রী ও স্থানীয়রা স্কুলে ঢুকে অভিযুক্ত সুপ্রভাত সাধুকে ধরে মারধর করতে শুরু করে এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বনগাঁ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ক্ষোভের আঁচ পুলিশের উপরও গিয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপর ইটবৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ডলি মিত্র জানান, “ছাত্রীদের মুখে ঘটনা শোনার পরই আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।” পরিচালন কমিটির সদস্য রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “এ ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আমরা ছাত্রীর পরিবারের পাশে আছি।”

অভিযুক্ত সুপ্রভাত সাধুর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের আশ্বাসে বেশ কিছুক্ষণ পর সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।