লাভপুরে ময়ূরাক্ষী নদীর বালিঘাটে মিলল নিখোঁজ গৃহবধূর খণ্ডিত দেহ! খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য

বীরভূমের লাভপুর এলাকায় ময়ূরাক্ষী নদীর লাঘোসা বালিঘাট থেকে এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। সাত দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক গৃহবধূর দেহের অর্ধাংশ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম ওলিমা বিবি (বয়স আনুমানিক ২৫)। তিনি সাঁইথিয়া থানার মহিষাদল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং প্রায় দশ বছর আগে লাভপুরের মীরবাধ গ্রামের শেখ ডালিমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির ছয় বছরের এক কন্যা সন্তানও রয়েছে।
বাপের বাড়ির গুরুতর অভিযোগ:
মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ওলিমার উপর তাঁর শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক নির্যাতন চলত। অতীতে দু’বার বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে পরিবার। সাত দিন আগে আচমকাই ওলিমা নিখোঁজ হন। এর পরই তাঁর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে লাভপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছিল।
বালিঘাট থেকে উদ্ধার খণ্ডিত অংশ:
বুধবার দুপুর প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ পুলিশ লাঘোসা বালিঘাট থেকে ওলিমা বিবির কোমরের উপরের অংশ উদ্ধার করে। কোমর থেকে নিচের সম্পূর্ণ অংশ এখনও পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া অংশে স্পষ্ট ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে বলেও সূত্রে খবর। পরিবারের জোরালো অভিযোগ, ওলিমাকে খুন করে তাঁর দেহ বালিঘাটে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, মৃতার পরিবার পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, দেহ উদ্ধার হলেও কোথায় রয়েছে, তা পরিবারকে সঠিকভাবে জানানো হয়নি। যদিও জানা গেছে, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই লাভপুর থানার সামনে ওলিমার বাপের বাড়ির লোকজনের ভিড় জমে এবং এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।