লাড্ডুর পর এবার রেশম! টিটিডি-তে জালিয়াতির নতুন চাঞ্চল্য, খাঁটি সিল্কের নামে চলছিল পলিয়েস্টার কারবার

লাড্ডু প্রসাদে ভেজাল ঘি সংক্রান্ত বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমস (TTD) নতুন এক গুরুতর বিতর্কের কেন্দ্রে। TTD-র অন্তর্বর্তী সতর্কতা (Vigilance) দপ্তরের তদন্তে দশ বছর ধরে চলা এক বিশাল জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, মন্দিরকে খাঁটি মালবেরি সিল্কের বদলে ১০০ শতাংশ পলিয়েস্টার শাল সরবরাহ করা হচ্ছিল, অথচ বিল করা হয়েছে উচ্চমূল্যের খাঁটি সিল্কের নামে। অভিযোগের অঙ্ক প্রায় ৫৪ কোটি টাকারও বেশি।

কীভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি?

TTD-র নতুন চেয়ারম্যান বি আর নাইডুর নেতৃত্বে ট্রাস্ট বোর্ডে এই শাল সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ সতর্কতা তদন্ত। তদন্তকারীরা দেখেন, চুক্তিতে খাঁটি মালবেরি সিল্ক সরবরাহ করার শর্ত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহকারী সংস্থা সস্তা পলিয়েস্টার ব্যবহার করে আসছিল।

এই শালগুলি মন্দিরের গুরুত্বপূর্ণ দাতাদের উপহার এবং বেদশীরবচনম-সহ বিভিন্ন পুজো ও ধর্মীয় আচারে ব্যবহৃত হয়। তাই এই দীর্ঘমেয়াদি জালিয়াতির প্রভাবও বিপুল।

ল্যাব টেস্টে সরাসরি ফাঁস

TTD-র সতর্কতা দপ্তর শালের নমুনা বিশ্লেষণের জন্য সেন্ট্রাল সিল্ক বোর্ড-সহ দু’টি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। দু’টি রিপোর্টেই নিশ্চিত করা হয় যে শালগুলি ১০০ শতাংশ পলিয়েস্টার। অর্থাৎ, টেন্ডারের শর্ত সরাসরি লঙ্ঘন করা হয়েছে। আরও উল্লেখযোগ্য, খাঁটি রেশম চিহ্নিত করার জন্য বাধ্যতামূলক সিল্ক হলোগ্রাম শালগুলিতে ছিলই না।

নাইডু জানান, যে শালের আসল দাম প্রায় ৩৫০ টাকা, তার বিল করা হয়েছে ১,৩০০ টাকা দরে। দশ বছরে মোট সরবরাহের অঙ্ক ৫০ কোটি ছাড়িয়েছে। জালিয়াতির প্রমাণ মেলায় TTD ট্রাস্ট বোর্ড তৎক্ষণাৎ ওই সংস্থার সমস্ত টেন্ডার বাতিল করেছে এবং পুরো বিষয়টি রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখায় (ACB) ফৌজদারি তদন্তের জন্য তুলে দিয়েছে। পরপর অনিয়মের অভিযোগে বিশ্বের ধনীতম এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01