দুর্ঘটনা না পরিকল্পিত হামলা? ন্যাজাটকাণ্ডে সাক্ষীর গাড়িতে রহস্যজনক ট্রাকের ধাক্কায় ২ জনের মৃত্যু, চক্রান্তের অভিযোগ

সন্দেশখালির শেখ শাহজাহান-মামলার সাক্ষীর গাড়িতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘিরে পরতে পরতে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। কোর্টে যাওয়ার সময় সাক্ষীর গাড়িতে একটি ট্রাকের ধাক্কায় সাক্ষীর ছেলে ও গাড়ির চালক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষ মুকুন্দপুর মণিপাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছে ভোলানাথ ঘোষের পরিবার।
ঘাতক ট্রাক নিয়ে বড় প্রশ্ন:
যে ট্রাকটি ধাক্কা মেরেছে, তার ফিটনেস ২ নভেম্বর এবং পারমিট ১৪ অক্টোবর থেকেই ‘ফেল’ ছিল। প্রশ্ন উঠছে, পারমিট এবং ফিটনেস ফেল হওয়ার পরেও কীভাবে একটি ট্রাক রাস্তায় চলছিল?
হামলা ও চক্রান্তের অভিযোগ:
বুধবার সকালে সরবেড়িয়া থেকে বসিরহাট কোর্ট যাওয়ার পথে বাসন্তী হাইওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের নাম সত্যজিৎ ঘোষ (সাক্ষীর ছেলে) এবং গাড়ির চালক শাহানুর।
আহত ভোলানাথ ঘোষের পরিবার বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছে। তাঁদের দাবি, শেখ শাহজাহানের অনুগামীরাই এই হামলা চালিয়েছে। ভোলানাথ ঘোষের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষের অভিযোগ, “মাঝেমধ্যেই শেখ শাহজাহানের লোকজন ভয় দেখাত। এই হামলার নেপথ্যে ন্যাজাট পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সবিতা রায় ও সহ সভাপতি মোসলেম শেখ জড়িত। ওঁরাই হুমকি দিতেন।” তাঁদের সন্দেহ, এই চক্রান্তের পেছনে সিবিআই-মামলায় পলাতক আবদুল আলি মোল্লাও থাকতে পারে। পরিবারের দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই তাঁদের গাড়ির অনুসরণ করা হচ্ছিল এবং ফাঁকা জায়গা দেখে হামলা করা হয়েছে।
অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব:
অন্যদিকে, চক্রান্তের অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূলের সবিতা রায় ও মোসলেম শেখ। সবিতা রায় দাবি করেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগ, পুরোটাই তদন্ত হোক।” মোসলেম শেখ বলেন, “ভোলানাথের সঙ্গে আমার ভাল সম্পর্ক, কেন বলছে জানি না। ট্রাক চালক বলে যার নাম বলা হচ্ছে তাকেও আমি চিনি না।”
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর থেকেই ট্রাক চালক পলাতক। তাকে ধরতে পারলেই ঘটনার আসল কারণ জানা যাবে।