“মুসলিম ভোট চাই না নয়, পাই না!” সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু অধিকারী

নিজের পুরনো মন্তব্য নিয়ে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক সামাল দিতে এবং সংখ্যালঘুদের মন পেতে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি কখনই বলেননি যে তিনি মুসলিম ভোট চান না, বরং তিনি বলেছেন যে তিনি আসলে সংখ্যালঘুদের ভোট পান না, যা ‘ধ্রুব সত্য’।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তাঁর লড়াই তৃণমূল আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে, সমস্ত ভারতীয় মুসলিমদের বিরুদ্ধে নয়।
গুন্ডা-খুনিদের ধর্ম হয় না:
শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“আমি সবসময় এটাই বলে এসেছি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে সব ধর্মের লোক ভাল আছে। সবাই ভাল আছেন, নিজ নিজ ধর্ম পালন করছেন। গুন্ডা গুন্ডাই হয়। খুনি খুনিই হয়। তার জাত ধর্ম আলাদা হয় না। ভারতীয় মুসলিমদের সঙ্গে বিজেপির কোনওদিনও লড়াই ছিল না। আজও নেই।”
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কখনও বলিনি মুসলিমদের ভোট চাই না। আমি বলেছি পাই না। এটা তো ধ্রুব সত্য। ‘১৯, ‘২১, ‘২৪ তিনটে বড় নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে বিজেপি এক শতাংশের কম মুসলিম ভোট পেয়েছে। আমি তৃণমূলের মুসলিমদের বিরুদ্ধে বলেছি, সব মুসলিমদের বিরুদ্ধে কেন বলব?”
বিজেপির অবস্থানে বদল:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুভেন্দুর এই অবস্থান বদল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাম্প্রতিক কৌশলের অংশ। কিছুদিন আগেই দলের বঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে শমীক ভাট্টাচার্য স্পষ্ট করেছিলেন যে, বাংলার মুসলিমদের প্রতি বিজেপির সুর নরম হবে। তিনি বলেছিলেন:
“সংখ্যালঘুদের বুঝতে হবে বিজেপির লড়াই সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই দুর্গাপুজোর বিসর্জন আর মহরমের মিছিল একই সময়ে একই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবে।”
শুভেন্দুর এই অবস্থানে শাসকদলের নেতারা কটাক্ষ করা শুরু করেছেন। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ একে ‘ব্যাক গিয়ার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় বিজেপি এখন বুঝেছে কেবলমাত্র হিন্দু ভোট দিয়ে, যেখানে ৩৭ শতাংশ সংখ্যালঘু রয়েছেন, তাঁদের কিছু শতাংশ ভোট না পেলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এটা এতদিনে বোধগম্য হয়েছে।”