নয়াদিল্লি, ইন্ডিগো ফ্লাইট সংকটে জরুরি শুনানি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে, কেন্দ্রকে হস্তক্ষেপের ভার দিল শীর্ষ আদালত

গত এক সপ্তাহে ইন্ডিগোর অসংখ্য বিমান বাতিল হওয়ার ফলে দেশজুড়ে যে বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই সংক্রান্ত মামলার জরুরি শুনানির আবেদন সোমবার খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির (CJI) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এই মুহূর্তে আদালতের তরফে জরুরি শুনানির প্রয়োজন নেই।

আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র প্রথমে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surjya Kant) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, দেশের ৯৫টি বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে, যার ফলে বহু যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে শোনার জন্য তিনি শীর্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ করেন।

তাঁর বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে অবগত এবং শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে লক্ষ লক্ষ মানুষ আটকে পড়েছেন। হয়ত কিছু লোকের জরুরি কাজ আছে এবং তাঁরা যেতে পারছেন না। কিন্তু ভারত সরকার বিষয়টি নজরে রেখেছে। মনে হচ্ছে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আদালত তো কোনও এয়ারলাইন্স চালাতে পারে না। আমরা এই মুহূর্তে কোনও জরুরি পরিস্থিতি দেখছি না।”

একই দিনে বিচারপতি বিক্রম নাথের নেতৃত্বাধীন আরেকটি বেঞ্চের সামনে একই বিষয়ে অন্য এক আবেদন উল্লেখ করা হয়। এস লক্ষ্মীনারায়ণন নামে এক ব্যক্তি এই আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। তিনি ভাড়ার স্বচ্ছতা, জরুরি বিমান পরিষেবার ধারাবাহিকতা এবং ইচ্ছামতো ভাড়া বৃদ্ধি ও ফ্লাইট বাতিলের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অসামরিক বিমান চলাচল খাতে শীর্ষ আদালতের জরুরি নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইন্ডিগোর ফ্লাইট সংকট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক সক্রিয়ভাবেই পদক্ষেপ নিচ্ছে। আদালত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার অপেক্ষায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01