‘অন্যায় হচ্ছে’, অনিয়মের কথা স্বীকার MSVP-র! সোনালী খাতুনকে দেখতে উপচে পড়া ভিড়, বিজেপি বলল ‘আন্দোলনে নামব’!

সংবাদ মাধ্যমের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে শাসক দলের নেতা-নেত্রী, মন্ত্রী ও বিধায়কদের অবাধ প্রবেশ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সুরক্ষার বিধিনিষেধ এবং স্বাস্থ্যবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে অবাধে ছবি ও ভিডিও তোলা হচ্ছে, যা প্রসূতিদের সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ।
বিজেপি এই ঘটনায় ‘দ্বিচারিতার’ অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের জন্য কোনো আইন-কানুন মানা হচ্ছে না।
সম্প্রতি আইনি জটিলতা কাটিয়ে মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশের আদালত অন্তঃসত্ত্বা সোনালী খাতুন ও তার নাবালক ছেলেকে ভারতে ফেরার অনুমতি দেয়। সেই মতো শুক্রবার তাঁকে দেশে ফেরানো হয় এবং শনিবার তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী, প্রসূতি বিভাগে সাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করে তৃণমূলের ভিড়
হাসপাতালে সোনালীকে দেখতে প্রথমে যান বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে অবাধে মোবাইল ক্যামেরা নিয়ে প্রসূতি বিভাগে প্রবেশ করেন। সঙ্গে ছিলেন হাসপাতালের এমএসভিপি (MSVP) পলাশ দাসও। এরপর হাসপাতালে যান লাভপুরের বিধায়ক রানা সিং এবং তৃণমূলের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল সহ ছোট-বড় মাপের একাধিক নেতা-নেত্রী। প্রত্যেকেই ভিডিও এবং স্টিল ছবি তুলে তা সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করছেন।
অন্যদিকে, পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ মাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ, কিন্তু শাসক দলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল।
বিজেপির কড়া অভিযোগ
এই দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল। তিনি বলেন, “ওই বিভাগে প্রবেশের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু সমাজ মাধ্যমে ছবি দেখে বুঝতে পারছি শাসক দলের নেতা-নেত্রীদের সেখানে অবাধ প্রবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সুরক্ষা ও সংক্রমণ বিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধ প্রবেশের ফলে রোগীরা সংক্রমিত হতে পারেন। তাছাড়া প্রসূতি বিভাগে অবাধ ছবি তোলায় মায়েদের সম্ভ্রম বে-আব্রু হয়ে পড়ছে। অবিলম্বে এই প্রবণতা বন্ধ না হলে আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব।”
এদিকে, এই অনিয়মের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন হাসপাতালের এমএসভিপি পলাশ দাস। তিনি বলেন, “অন্যায় হচ্ছে। এভাবে প্রসূতি বিভাগে অবাধ প্রবেশ করা যায় না। ওই বিভাগে মায়েদের সুরক্ষা এবং সম্ভ্রম দুটোই সুরক্ষিত রাখা উচিত। আমরা আরও সতর্ক হব।”