‘বাবরি মসজিদ’ ইস্যুতে চরম শর্ত নওশাদের! হুমায়ুন কবীরকে চরম হুঁশিয়ারি! আলোচনায় বসতে হলে মানতে হবে এই নিয়ম

বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া নেতা হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক তথা ভাঙড়ের জনপ্রিয় নেতা নওশাদ সিদ্দিকী। লোকসভা নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট বাঁধার কোনও সম্ভাবনা আপাতত উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে, একটি চরম শর্ত পূরণ হলে ভবিষ্যতে আলোচনার রাস্তা খুলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নওশাদ।

শুক্রবার আসানসোলের বারাবনি এলাকার একটি জনসভায় যোগ দেন নওশাদ সিদ্দিকী। সেখানেই ওঠে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নওশাদ স্পষ্ট জানান:

“লোকসভা ভোটের আগে সাম্প্রদায়িক কথা বলেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এই মুহূর্তে তাই জোটের কোনও প্রশ্নই নেই।”

তাঁর শর্ত, “আগে তিনি (হুমায়ুন) ওই মন্তব্য ফিরিয়ে না-নিলে জোটের কোনও প্রশ্নই আসছে না। সেই মন্তব্য তিনি প্রত্যাহার করে নিলে ভবিষ্যতে হয়তো আলোচনায় বসার সুযোগ হতে পারে।”

নওশাদ আরও বলেন, “হুমায়ুন যে মন্তব্য করেছিলেন তা বাংলার ঐক্যের বিরোধী। এটা নজরুল-রবির বাংলা। তাই সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করলে, তবেই আলোচনা।”

জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ভরতপুরের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ তৈরি করার কথা জানিয়েছিলেন। এই মন্তব্যের জেরে গত ৪ ডিসেম্বর তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে আজ, ৬ ডিসেম্বর রেজিনগরে মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করার কথা তাঁর।

হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার পর মুসলিম ভোটে আইএসএফ কি সুযোগ নেবে? এই প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ সিদ্দিকীর সোজাসাপটা জবাব:

“হিন্দু না মুসলিম ভোট, এই ভাবে আমরা সুযোগ নেব না। আমরা মানুষের অধিকারের কথা বলি। মানুষ যদি সেই সুযোগ দেয়, তবে তাঁরা আমাদের সঙ্গে আসবে।”

একইসঙ্গে তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে হিন্দুদের মন পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন:

নওশাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণ হিন্দু-মুসলিমের কেউই মেনে নিতে পারছে না।”

“এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দুদের মন পাওয়ার জন্য দার্জিলিং থেকে দিঘা পর্যন্ত মন্দির করতে ব্যস্ত।”

হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার বিষয়ে তাঁর মারাত্মক দাবি, “হুমায়ুনকে যে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাও হিন্দু ভাইদের মন পাওয়ার জন্য। তবে তাতে হিন্দু ভাইদের মন গলবে না।”

তাঁর মতে, “আর মুসলমানরা মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে যে তারা তৃণমূলকে হারাবে।”

হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আইএসএফের কোনও যোগাযোগ হয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তরে নওশাদ জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে সরাসরি কোনও কথা হয়নি। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “হতে পারে অন্য কেউ আমাদের দলের কর্মী সেজে হুমায়ুনবাবুকে টোপ দিচ্ছেন।”