দেড় কাঠা জমিতে ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর! পর্যাপ্ত জমি পাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন, মুখ খুললেন জমির মালিকরা

তৃণমূল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আজ (শনিবার) মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ঘটা করে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। ভোর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন জেলার বহু মানুষ ইট নিয়ে এসে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের সেই জমিতে জড়ো হতে শুরু করেন। কিন্তু, এই বিশাল প্রকল্পের জন্য পর্যাপ্ত জমি পাওয়া নিয়েই এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
ক্ষুদ্র জমিতে বিশাল পরিকল্পনা:
যে জমিতে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান হলো, তার আয়তন মেরেকেটে দেড় থেকে দু’কাঠা। কিন্তু হুমায়ুন কবীরের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবরি মসজিদ তৈরি করতে কয়েক বিঘা জমির প্রয়োজন। এই জমি তিনি পাবেন কি না, তা নিয়ে কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
জমির মালিকদের বক্তব্য:
কয়েকদিন আগেই নিজামুদ্দিন চৌধুরী নামে এক জমির মালিক তাঁর ৬ বিঘা জমি ঘিরে দিয়ে বলেছিলেন, “বাবরি মসজিদ একটা বিতর্কিত ইস্যু। সেই আবেগ নিয়ে কেন খেলতে চাইছেন? এই জায়গার মালিক আমি। কাউকে জায়গা বিক্রি করিনি।”
আজ, ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানের দিনেও মোহিত শেখ নামে আরও এক কৃষকের জমি সামনে আসে। যে জমিতে অনুষ্ঠান হচ্ছে, তার আল লাগোয়া প্রায় ১৫ কাঠা জমির মালিক মোহিত শেখের পরিবার।
দান বা বিক্রির খবর নেই: মোহিত শেখ স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমরা চাষাবাদ করে খাই। এই একটাই জমি রয়েছে। জমি বিক্রি কিংবা দান করিনি।”
ভবিষ্যতের ভাবনা: জমি বিক্রির কোনও প্রস্তাব পেয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মোহিত শেখ বলেন, আপাতত নয়। তবে প্রস্তাব পেলে আগামীতে তিনি ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
আবেগের কাছে নতিস্বীকার: যদিও তিনি জমির ফসল নষ্ট হওয়া ঠেকাতে বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছিলেন, কিন্তু মানুষের আবেগ দেখে বেড়া খুলে দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবীরের রহস্যময় উত্তর:
সব মিলিয়ে, হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সত্ত্বেও, কয়েক বিঘা জমি অধিগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত বাবরি মসজিদ নির্মাণের ভবিষ্যত নিয়ে বড় ধরনের ধোঁয়াশা থেকেই গেল।
এই জমি বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবীর রহস্যময় হেসে বলেন, “যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে উত্তর পেয়ে যাবেন।” সাসপেন্ডেড বিধায়কের এই মন্তব্য পুরো বিষয়টি নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।