দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহারে বিকৃত হচ্ছে হাতের আকৃতি! গবেষকরা জানালেন ‘স্মার্টফোন পিঙ্কি’ সমস্যা কী?

আপনি কি দীর্ঘক্ষণ ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন? তাহলে আপনার জন্য একটি উদ্বেগের খবর রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন থেকে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্মার্টফোনের ভুল ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারীদের হাতের আকৃতি পরিবর্তন হচ্ছে। গবেষকরা এই সমস্যাকে ‘স্মার্টফোন পিঙ্কি’ (Smartphone Pinky) বলে চিহ্নিত করেছেন।
কী এই ‘স্মার্টফোন পিঙ্কি’?
গবেষকরা জানিয়েছেন, যদিও এটি এখনও চিকিৎসা পরিভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তবে এটি মূলত হাতের পঞ্চম বা কনিষ্ঠ (Little Finger) আঙুল বেঁকে যাওয়ার মতো অবস্থা বোঝায়।
মোট ৫০০ জন স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর উপর গবেষণা চালিয়ে এই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ব্যবহারকারীই এই ‘স্মার্টফোন পিঙ্কি’ সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
কীভাবে হাতের আকৃতি বদল হচ্ছে?
বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই একটি হাত ব্যবহার করে ফোনটির সমস্ত টাইপিং এবং অন্যান্য কাজ সারেন। সেক্ষেত্রে ফোনটি ধরে রাখার জন্য তাঁরা কনিষ্ঠ আঙুলের (লিটল ফিঙ্গার) উপর ভর দেন। গবেষকদের দাবি, এই অভ্যাসের কারণেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
চাপ বৃদ্ধি: স্মার্টফোনের ওজন এবং আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনটিকে ধরে রাখার সময় লিটল ফিঙ্গারের মধ্যবর্তী স্থানের উপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ছে।
আঙুলের পরিবর্তন: গবেষকদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে স্মার্টফোন হোল্ড করার ফলে লিটল ফিঙ্গারের হাড়ের মাঝের অংশ বাইরের দিকে বেঁকে যাচ্ছে, তবে আঙুলের উপর ও নিচের অংশ সোজা থাকছে।
অন্যান্য শারীরিক সমস্যা:
এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪৯.৯ শতাংশ ঘাড়ের ব্যথার সমস্যায় ভোগেন এবং ২৯.২ শতাংশ মানুষের বৃদ্ধাঙুলের (Thumb) সমস্যা রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে ফোনের ভুল ব্যবহার যে শুধু আঙুলে নয়, সার্বিকভাবে শরীরের উপর চাপ ফেলছে, তা প্রমাণিত।
সমাধান কী?
গবেষকরা এই সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:
এক আঙুলে ভর নয়: শুধুমাত্র কনিষ্ঠ আঙুলের উপর ভর করে ফোন ব্যবহার করা উচিত নয়।
পুরো হাতে ভর: ফোনটি পুরো হাতের উপর রেখে ব্যবহার করা উচিত, যাতে ওজনটি সমানভাবে বণ্টিত হয়।
দুই হাতের ব্যবহার: একটি হাতে ফোনটি ধরে রেখে অন্য হাতের আঙুল ব্যবহার করে ফোনের কাজ সারতে পারেন।