মধ্যবিত্তের মাথায় হাত! ২০২৬ সালে সোনার দাম বর্তমানের চেয়ে ৩০% পর্যন্ত বাড়তে পারে, WGC-এর রিপোর্টে আশঙ্কা!

সোনার দামের ক্রমাগত ওঠানামার মধ্যে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (WGC) একটি সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা আগামীতে মধ্যবিত্তের চিন্তা বাড়াবে। WGC-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সোনার দাম তার বর্তমান স্তর থেকে ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

দাম বৃদ্ধির কারণ কী?

প্রতিবেদনে এই রেকর্ড বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে:

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিশ্বজুড়ে বর্ধিত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়স্থল (Safe Haven) হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকবে।

পতনশীল ফলন: পতনশীল বন্ড ফলন এবং নিরাপত্তার দিকে সুস্পষ্ট পরিবর্তন সোনার দাম বৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করবে।

বিনিয়োগ বৃদ্ধি: গয়না এবং প্রযুক্তির মতো অন্যান্য বাজার ক্ষেত্র থেকে দুর্বলতা দেখা গেলেও, গোল্ড এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগের চাহিদা তুঙ্গে থাকবে।

রেকর্ড ETF ইনট্রাডে ফ্লো:

WCG-এর তথ্য অনুযায়ী, CY25 সালে বিশ্বব্যাপী সোনার ইটিএফগুলিতে এখন পর্যন্ত ৭৭ বিলিয়ন ডলারের ইন্ট্রাডে ফ্লো দেখা গেছে, যার ফলে তাদের মজুদ ৭০০ টনেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ইটিএফ মজুদ এখনও পূর্ববর্তী সোনার চক্রের তুলনায় অর্ধেকেরও কম, যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির জন্য উল্লেখযোগ্য জায়গা ছেড়ে দিয়েছে।

অতীতে চাহিদা: এর আগে, ২০২৫ সালে, মার্কিন শুল্ক এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সোনার চাহিদা বেশি ছিল, যার ফলে এর দাম ৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মুদ্রাস্ফীতি ও ফেডের ভূমিকা:

রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে যে এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। মুদ্রাস্ফীতির চাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (ফেড) ২০২৬ সালে সুদের হার ধরে রাখতে বা বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। এই অর্থনৈতিক অস্থিরতা সোনাকে আরও আকর্ষণীয় বিনিয়োগে পরিণত করবে।

তবে, WGC রিপোর্টে একটি বিকল্প দিকও দেখানো হয়েছে: যদি পরিস্থিতি পাল্টে যায়, তাহলে ২০২৬ সালে সোনার দাম ৫% থেকে ২০% পর্যন্ত কমতে পারে।