এই প্রথম নয়! ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল, জানেন কি তাঁর রাজনৈতিক অতীত?

বৃহস্পতিবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেস সাসপেন্ড করল দলের পুরোনো বিদ্রোহী নেতা হুমায়ুন কবীরকে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলের কাছে অপ্রত্যাশিত নয়, কারণ বিদ্রোহ আর দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সিদ্ধহস্ত এই নেতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা চত্বরে দাঁড়িয়েই সাংবাদিকের কাছে নিজের সাসপেন্ড হওয়ার খবর শোনেন হুমায়ুন। খবরটি শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় অবস্থান অগ্রাহ্য করে বাবরি মসজিদ তৈরি করার সপক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন হুমায়ুন কবীর। এই মন্তব্যের জন্য সতর্ক করা হলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। দলীয় সূত্রে খবর, তাঁর বারবার দলবিরোধী কাজ করার ইতিহাস আজকের নয়, তাই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

‘বিদ্রোহী’ হুমায়ুনের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস
পেশায় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল কংগ্রেসে। মুর্শিদাবাদ জেলায় তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১১ সালে বাম-কংগ্রেস জোটের সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। এরপরই শুরু হয় তাঁর ‘বিদ্রোহী’ অধ্যায়। কংগ্রেস হাইকমান্ডের নির্দেশে অন্যরা পদত্যাগ করলেও, হুমায়ুন পদত্যাগ করেননি। ফলস্বরূপ, সে যাত্রায় প্রথমবার কংগ্রেস তাঁকে সাসপেন্ড করে। পরে বিধায়ক পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কিন্তু মোহভঙ্গ হতে সময় লাগেনি। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ২০১৫ সালে ফের বিদ্রোহ শুরু করেন তিনি। সেবার শুধু দল নয়, খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও মুখ খোলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুরুত্ব বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের সাসপেন্ড হন তৃণমূল থেকে। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে তৃণমূলের টিকিট না পাওয়া প্রার্থী রবিউল চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তিনি নিজের ক্ষমতার জানান দেন।

২০১৮ সালে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। সেখানেও বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে একসময় ‘ঘর ওয়াপসি’ করেন। ২০২১ সালে ভরতপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জেতেন। তবে আসন্ন ভোটের আগে আবার শুরু হয়েছে তাঁর বিদ্রোহ। হুমায়ুনের এই বারবার দলের বিরুদ্ধে মুখ খোলা কি তাঁর নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের কৌশল? নাকি তৃণমূলের সন্দেহ সত্যি – ভোটের আগে অন্য কোনো পক্ষ তাঁর বিদ্রোহী সত্তাকে ব্যবহার করতে চাইছে? এই সাসপেনশনের পর হুমায়ুনের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেটাই দেখার।