হাইকোর্টে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বহাল, ‘দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা’ পেল? উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি!

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিরাট স্বস্তি পেলেন প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চের বাতিলের নির্দেশ খারিজ করে আজ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ ওই ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে আদালত এই নিয়োগে ‘কোনও দুর্নীতি নেই’ বলেও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা পরিবারগুলিতে স্বস্তি ফিরলেও, রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম।

‘কর্তৃপক্ষের ভুলের দায় নিরীহদের নয়’:

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৬ সালের ওই নিয়োগকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চ মানবিক দিকটি তুলে ধরে জানায়, “কর্তৃপক্ষের ভুল বা দুর্নীতির দায় নিরীহ চাকরিপ্রাপ্তদের ওপর চাপানো যায় না। ৯ বছর পর চাকরি বাতিল করলে পরিবারগুলোর মাথায় আঘাত নেমে আসবে, এটা মানবিক দিক থেকে সমর্থনযোগ্য নয়।” আদালত স্পষ্ট করেছে, চাকরি বহাল থাকলেও দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত এবং রিজার্ভেশন সহ অন্যান্য অনিয়মের মামলাগুলি সিঙ্গেল বেঞ্চে আগের মতোই চলবে। অর্থাৎ, আইনি বিচার এখনো শেষ নয়।

বিরোধীদের তীব্র ক্ষোভ: ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জয়’

হাইকোর্টের এই রায়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে সরব হয়ে লিখেছেন যে, এই রায় “দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা” দিল। তাঁর কথায়, “আজকের রায়ের পরে পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার বেকার যুবকের মনে নতুন প্রশ্ন উঠবে। যারা প্রকৃত যোগ্য হয়েও চাকরি পায়নি, তাদের পরিবারের কি কোনও মূল্য নেই?” তিনি আরও দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের নীতি এই রায়ে মানা হয়নি, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত নিয়োগ বাতিলের পক্ষে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। তিনি জানান, “লড়াই থামবে না। শেষ কথা সুপ্রিম কোর্ট বলবে।”

বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী এবং আন্দোলনকারীদের মতে, “চাকরি বাঁচালেই দুর্নীতি মুছে যায় না। যারা অন্যায়ভাবে বঞ্চিত, তাদের ন্যায় কে দেবে?”

রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা: ‘বিচারের জয়’

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার এই রায়কে ‘বিচারের জয় ও মানুষের জয়’ বলে ব্যাখ্যা করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “বিচার ব্যবস্থা আবার দেখিয়ে দিল তৃণমূল সরকার যোগ্যদের চাকরি দিয়েছে। বিরোধীদের মিথ্যে প্রচার ভেসে গেল।” তবে, এই মামলা এখন নিশ্চিতভাবেই সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই সবার নজর।