‘ভোটার তালিকায় হিন্দুদের নাম না রাখতে উত্তর 24 পরগনার জেলাশাসককে নির্দেশ মমতার!’, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর, প্রমাণ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা এবং অনুপ্রবেশের বিষয় নিয়ে চরম বিতর্ক শুরু হলো। বুধবার মালদায় এক জনসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি এবং বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসা হিন্দুদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর গোপন বৈঠকের নির্দেশের দাবি:

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মঙ্গলবার (গতকালের) বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নিয়ে সমস্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওদের সঙ্গে একটি ভিডিও কনফারেন্স করেছেন। ওই বৈঠকের সাক্ষী রাজ্যের সমস্ত আধিকারিকরা। বিরোধী দলনেতার কথায়, “উত্তর 24 পরগনার জেলাশাসককে তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে এদেশে আসা হিন্দুদের নাম যেন ভোটার তালিকায় না ওঠে। আমার কাছে তার প্রমাণ রয়েছে। বৈঠকে থাকা প্রত্যেকে সেকথা শুনেছেন।”

এছাড়াও, ওই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী মালদা ও মুর্শিদাবাদের জেলাশাসকদের কাছে জানতে চান—”ধুলিয়ান আর সামশেরগঞ্জে এখনও বিএসএফ কেন রয়েছে?” শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা দাবি, তাঁর আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের নির্দেশে ওই দুই এলাকায় হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য 17 কোম্পানি বিএসএফ (BSF) এবং সিআরপিএফ (CRPF) মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজ্যকে কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’র পাল্টা হিসাব:

শুভেন্দু অধিকারী এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া বিপুল অনুদানের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ খণ্ডন করেন। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার 2014 থেকে 2024 সাল পর্যন্ত রাজ্যকে মোট আট লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, যেখানে ইউপিএ-2 সরকারের আমলে (2004-2014) মিলেছিল মাত্র দুই লাখ কোটি টাকা।

তাঁর অভিযোগ:

রাজ্যে এক লাখ ভুয়ো জবকার্ড তৈরি করে সাত হাজার কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং 100 দিনের কাজের টাকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কাছে যাচ্ছে।

মনরেগা প্রকল্পে মোদি সরকার 54 হাজার কোটি টাকা দিলেও 2022 সালে চুরি ধরা পড়ে তদন্ত চলছে।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় মোদি সরকার 40 লাখ বাড়ি তৈরির জন্য 30 হাজার কোটি টাকা দিয়েছে, যা কংগ্রেস আমলের তুলনায় বহু গুণ বেশি।

শিল্প ও উন্নয়নে ‘মমতা-কাঁটা’:

বিরোধী দলনেতা আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে শিল্প ও উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের চাওয়া জমি তিনি দিচ্ছেন না। হাসিমারা, কলাইকুণ্ডা, কল্যাণী, ভাঙড়ে নেতাজি সুভাষচন্দ্র অন্তর্দেশীয় বিমানবন্দর ও বাগডোগরায় দ্বিতীয় এয়ারপোর্টের জন্য কেন্দ্রের জমি চাওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তা আটকে রেখেছেন। তিনি বলেন, “জোকা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত মেট্রোর কাজে চিংড়িঘাটায় জমি জট আপনিই মেটাচ্ছেন না। আপনিই বাংলাকে পিছিয়ে দেওয়ার কারিগর।”

তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় 8200 স্কুল বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় 6888টি শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে।