উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের ‘আচমকা ইস্তফা’ নিয়ে তপ্ত সংসদ! রাজ্যসভায় খাড়গের আক্রমণ, পালটা ঝাঁঝ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর!

শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিরোধীদের ‘নাটক না করার’ আবেদন জানালেও, অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদের অভ্যন্তরে দেখা গেল তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ। বিশেষ করে উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankhar) ‘আচমকা ইস্তফা’ নিয়ে সরব হলেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge), যার পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)।

খাড়গের আক্রমণের মূল সুর: ভারসাম্য এবং ধনকড়ের ইস্তফা

রাজ্যসভার নতুন চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে স্বাগত জানানোর পরই খাড়গে তাঁর পূর্বসূরী জগদীপ ধনকড়ের সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

“আমি আশা করি আপনি কিছু মনে করবেন না যে আমি আপনার পূর্বসূরীর রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং আকস্মিক পদত্যাগের কথা উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমি হতাশ হয়েছিলাম যে হাউস তাঁকে বিদায় জানানোর সুযোগ পায়নি।”

এরপর নতুন চেয়ারম্যানের উদ্দেশে খাড়গে সতর্ক করে বলেন:

“আমি আপনাকে অনুরোধ করছি যে আপনি ওই দিকে (ট্রেজারি) খুব বেশি তাকাবেন না, কারণ এটা বিপজ্জনক। কিন্তু এই দিকে (বিরোধী দলের) না দেখাও বিপজ্জনক। অতএব, উভয় পক্ষের ভারসাম্য বজায় রাখাই ভাল।”

খাড়গে আরও যোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাংবদাকি সম্মেলনে পরোক্ষভাবে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন এবং তাঁরা সংসদে এর উপযুক্ত জবাব দেবেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে নতুন চেয়ারম্যান নিরপেক্ষ থাকবেন এবং বিরোধী ও ট্রেজারি বেঞ্চের সঙ্গে একই রকম আচরণ করবেন।

কিরেন রিজিজুর পাল্টা আক্রমণ: ‘চেয়ারের মর্যাদা কলঙ্কিত হয়েছে’

খাড়গের বক্তব্যের পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি খাড়গেকে স্মরণ করিয়ে দেন, ধনকড়ের বিরুদ্ধে বিরোধীরা যে অভদ্র ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং অপসারণের প্রস্তাব এনেছিলেন, তা সংসদ ভুলে যায়নি।

“আমি কেবল সংসদকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে আপনি প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যানকে অপমান করার জন্য যে ভাষা ব্যবহার করেছিলেন, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সম্পর্কে আপনি যে অভদ্র শব্দ ব্যবহার করেছিলেন তা ভুলে গেছেন। অপসারণের নোটিসে আপনি যে শব্দগুলি ব্যবহার করেছেন, একবার ভাবুন আপনি চেয়ারের মর্যাদা কতটা কলঙ্কিত করেছেন।”

রিজিজু আবেদন করেন, এই পবিত্র সময়ে এমন অপ্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ের উল্লেখ না করার জন্য।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জগদীপ ধনকড়ের হঠাৎ উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। তাঁর পদত্যাগের প্রায় দেড় মাসের মাথায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র প্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণন নির্বাচনে জয়ী হয়ে নতুন উপরাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নেন।