শীতপ্রেমীদের জন্য বিরাট স্বস্তি! ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াত’-এর সরাসরি প্রভাব নেই বাংলায়, কবে আরও জাঁকিয়ে পড়বে ঠান্ডা?

শীতপ্রেমী বাঙালির জন্য স্বস্তির খবর দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াত’ (Ditwat) কার্যত তাণ্ডব চালালেও তার সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলার শীতের আগমনের পথে বাধা হবে না। ফলে রাজ্যে আপাতত শীতের আমেজ বজায় থাকবে এবং তাপমাত্রারও বিশেষ তারতম্য হবে না।

ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান ও প্রভাব:

মৌসম ভবন ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও শ্রীলঙ্কা উপকূলে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াত’ দ্রুত উত্তর-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। এর জেরে উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের কারাইকাল থেকে 320 কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, পুদুচেরি থেকে 430 কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং চেন্নাই থেকে প্রায় 530 কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার 30 নভেম্বর ভোরে ‘দিতওয়াত’ উত্তর তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে পৌঁছবে।

বাংলায় শীতের আমেজ বজায়:

সাধারণত বছরের এই সময় বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে উত্তুরে হাওয়া প্রবেশে বাধা পায় এবং শীতের আগমন বিলম্বিত হয়। তবে এই ক্ষেত্রে সেই আশঙ্কা নেই। ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাবে বঙ্গের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও তা স্বাভাবিকের নীচেই থাকছে।

  • কলকাতা: আগামী কয়েকদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা 17 ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে।

  • জেলার তাপমাত্রা: জেলার তাপমাত্রা 12 থেকে 14 ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করতে পারে।

আপাতত রাজ্যে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। উত্তরবঙ্গেও শুষ্ক আবহাওয়া এবং শীতের আমেজ বজায় থাকবে। দার্জিলিঙের তাপমাত্রা 6 ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকবে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ভোরে বিক্ষিপ্তভাবে কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল 28.04 ডিগ্রি সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে $0.5^\circ$ সেলসিয়াস কম) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল $17.03^\circ$ সেলসিয়াস (স্বাভাবিকের চেয়ে $0.2^\circ$ সেলসিয়াস কম)।