সতর্ক দিঘা প্রশাসন! হোটেল মালিকদের কড়া নির্দেশ, পর্যটকদের তথ্য এবার সরাসরি পুলিশের পোর্টালে আপলোড বাধ্যতামূলক!

নভেম্বরের শুরু থেকেই দিঘা-মন্দারমণিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ডিসেম্বরে এই ভিড় আরও রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। এই বিপুল ভিড়ের সুযোগে যাতে কোনো অপ্রীতিকর বা অপরাধমূলক পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিল পুলিশ-প্রশাসন।

দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা জোরালো করতে সদ্য হোটেল সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি বৈঠক করেছে প্রশাসন। এবার পর্যটকদের সমস্ত তথ্য পুলিশের বিশেষ পোর্টালে নথিভুক্ত বা আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক হোটেল কর্তৃপক্ষ এতদিন তথ্য আপলোড করছিলেন না।

১ কোটি পর্যটকের লক্ষ্য:

গত এপ্রিলে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর থেকেই দিঘায় পর্যটকের সংখ্যায় বড়সড় উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, করোনার আগে যেখানে বছরে ৪০-৫০ লক্ষ পর্যটক আসতেন, সেই সংখ্যা এবার ১ কোটির লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারে। মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও মন্দির দেখতে আসছেন।

পুলিশের কড়া বার্তা:

ডিএসপি আবুনুর হোসেন জানিয়েছেন, ভিড়ের সময় কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে বা অপরাধ ঘটলে যাতে দ্রুত তদন্ত করা যায় এবং অপরাধীকে সহজে চিহ্নিত করা যায়, সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। তিনি মনে করিয়ে দেন, দিঘা থানাকে ভেঙে দিঘা মোহনা কোস্টাল থানা তৈরি করা হয়েছিল এবং এবার দিঘা থানাকে আইসি থানায় উন্নীত করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হোটেলে আসা প্রত্যেক পর্যটকের তথ্য পুলিশ পোর্টালে আপলোড করতে হবে। বড়দিনের আগে এই বিষয়ে হোটেল সংগঠনগুলোর সঙ্গে ফের বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া নির্দেশিকা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পর্যটকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এবার ন্যূনতম গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না।