রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সাভারকর মানহানি মামলায় মূল প্রমাণ ‘ফাঁকা’! কোর্টে CD চালাতেই হতবাক বিচারক!

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সাভারকর মানহানির মামলায় বৃহস্পতিবার পুণের সাংসদ/বিধায়ক বিশেষ আদালতে ঘটে গেল এক নাটকীয় ঘটনা। মূল প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া একটি সিল করা ভিডিও CD ফাঁকা বেরিয়েছে। সিডিটি চালানো হলেও তাতে কোনও ডেটা ছিল না, যা আদালত এবং দুই পক্ষের আইনজীবীদের হতবাক করে দিয়েছে।
কীভাবে ফাঁকা হল প্রমাণ?
লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে হিন্দুত্ববাদী নেতা বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে নিয়ে ‘আপত্তিজনক’ মন্তব্য করার অভিযোগে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছিলেন সাভারকরের প্রপৌত্র (ভাইয়ের পৌত্র) সাত্যকি সাভারকর। অভিযোগকারীর আইনজীবী সংগ্রাম কোলহাতকর আদালতকে জানান, এর আগে আদালতে এই সিডিটি চালানো হয়েছিল এবং সেই বক্তব্যের ভিত্তিতেই রাহুলের বিরুদ্ধে সমন জারি করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিডিটি চালাতেই দেখা যায়, তাতে কোনও তথ্য নেই।
অনলাইনে ভিডিও দেখার আবেদন খারিজ:
সিডি ফাঁকা থাকায় অভিযোগকারীর আইনজীবী তখন আদালতের কাছে ইউটিউবে থাকা রাহুলের বক্তব্যের ভিডিওটি সরাসরি দেখার আবেদন জানান। এর তীব্র আপত্তি জানান রাহুলের পক্ষের আইনজীবী মিলিন্দ দত্তাত্রেয় পাওয়ার। তাঁর যুক্তি ছিল, অনলাইন কন্টেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ম্যাজিস্ট্রেট অমল শিণ্ডে সেই আপত্তিতে সায় দেন। তিনি বলেন, ‘প্রমাণ হিসেবে URLটি গ্রহণযোগ্য নয়।’ ইলেকট্রনিক রেকর্ড আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের জন্য ধারা 65B সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক।
সাভারকর পরিবারকে নিয়ে রাহুলের পাল্টা দাবি:
এর আগে, সাভারকরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় পুণের MP-MLA কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে রাহুল গান্ধী চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, বিনায়ক সাভারকর এবং নাথুরাম গডসে পরস্পরের আত্মীয় ছিলেন এবং এই পারিবারিক সম্পর্ক সাত্যকি সাভারকর আড়াল করছেন। রাহুল গান্ধীর দাবি, সাত্যকির মায়ের দিক থেকে গডসে পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সাত্যকি কেবল সাভারকরের ভাই নারায়ণ সাভারকরের প্রপৌত্র হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন, কিন্তু মায়ের দিকের সম্পর্ক লুকিয়ে গিয়েছেন।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে লন্ডনের ওই আলোচনায় সাভারকর সম্পর্কে মন্তব্য করার পর থেকেই এই আইনি টানাপোড়েন শুরু হয়।