‘অ্যাডল্ফ হিটলার উনোনা’র দ্বিতীয় জয়, নামিবিয়ার স্থানীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের দোরগোড়ায় নাৎসি একনায়কের নামধারী নেতা

আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তের ছোট্ট দেশ নামিবিয়ার স্থানীয় রাজনীতি এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ, সেখানে এক স্থানীয় নির্বাচনে জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন এক নেতা— যাঁর নাম অ্যাডল্ফ হিটলার উনোনা। তাঁর এই জয় নয়, বরং নামের সঙ্গে নাৎসি আমলের জার্মান একনায়ক হিটলারের নামের সাদৃশ্য নিয়েই চলছে দিনভর চর্চা।
জার্মান উপনিবেশের রেওয়াজ ও জনপ্রিয়তা
১৮৮৪ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নামিবিয়া জার্মান উপনিবেশ ছিল। সেই সময়ের গণহত্যার ইতিহাস থাকলেও, সাবেক এই উপনিবেশে শিশুদের নাম জার্মান নায়কদের নামে রাখার একটি রেওয়াজ রয়েই গেছে। ৫৯ বছর বয়সি উনোনা দক্ষিণ পশ্চিম আফ্রিকা পিপলস অর্গানাইজেশন বা ‘সোয়াপো’-র অন্যতম নেতা। বুধবার সে দেশের ওশানা অঞ্চলের ওমপুন্ডজা নির্বাচনী এলাকায় বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হতে চলেছেন। স্থানীয়দের কাছে অ্যাডলফ হিটলার নামের প্রতি কোনো ঘৃণা নেই, উল্টে রয়েছে প্রবল জনপ্রিয়তা। এই জনপ্রিয়তার ভর করেই তিনি তাঁর দ্বিতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করতে চলেছেন।
নাম নিয়ে উনোনা কী বললেন?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ সেই রাষ্ট্রনায়কের নামে কেন তাঁর নামকরণ হলো—এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। উনোনা জানান, তাঁর বাবা-মা প্রাক্তন জার্মান চ্যান্সেলরের নামেই তাঁর নামকরণ করেছিলেন। তবে উনোনা নিজে এই নাম নিয়ে বিব্রত। তিনি নিজের পরিচয় দেন অ্যাডলফ উনোনা নামে।
হিটলার নাম নিয়ে জিজ্ঞাসা করলেই চটে যাওয়া উনোনা ২০২০ সালে একটি জার্মান সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে তিনি নাৎসি ভাবাদর্শের সম্পূর্ণ বিপরীতে। তাঁর কথায়:
“যখন ছোট ছিলাম, এই নামের ‘মাহাত্ম্য’ বুঝিনি। বড় হয়ে বুঝলাম, সারা পৃথিবীকে পায়ের তলায় আনতে চেয়েছিল লোকটা। খুবই ঘৃণ্য।”
কিন্তু নাম পাল্টে ফেললেন না কেন? উনোনা এর কারণ হিসাবে জানিয়েছেন, সব সরকারি নথিতে নাম পাল্টানো খুব মুশকিলের ব্যাপার, তাই তিনি আর চেষ্টা করেননি। তবে তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে অ্যাডলফ উনোনা নামেই ডাকেন। তাঁর স্ত্রীও তাঁকে ‘অ্যাডলফ’ নামে ডাকেন।
অ্যাডলফ হিটলার উনোনা প্রথমবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিলেন ২০২০ সালে। নামিবিয়ার নির্বাচনে ওমপুন্ডজা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রায় ৮৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। পাঁচ বছর পরে, একই কারণে ফের খবরে উনোনা। এবারও তাঁর ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্ট্রি’ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।