থাইল্যান্ডে সারি সারি বসে রয়েছে গোলাপি রঙের হাতি, জেনেনিন কেন?

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের প্রতি জনগণের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক বিরল ও ঐতিহ্যবাহী চিত্র দেখা গেল রাজধানী ব্যাংককে। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর), গ্র্যান্ড প্যালেসের সামনে ১১টি গোলাপি রঙের হাতি সারিবদ্ধভাবে মাথা নত করে প্রয়াত রানি সিরিকিটের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

গত অক্টোবরে ৯৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন রানি সিরিকিট। তিনি থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের জননী এবং দেশটির দীর্ঘতম সময় শাসনকারী রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী ছিলেন।

কেন হাতিদের গোলাপি রঙে সাজানো হলো?
থাই সমাজে রাজপরিবার অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। রানির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়ুথায়া প্রদেশের রয়্যাল এলিফ্যান্ট ক্রাল ভিলেজের মালিক লাইটোংরিয়ান মিপান এই শোভাযাত্রাটির আয়োজন করেন।

হাতিগুলোকে গোলাপি রঙে রাঙানোর বিশেষ কারণ রয়েছে। এই গোলাপি হাতিগুলো শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত অ্যালবিনো হাতির প্রতীক হিসেবে সাজানো হয়। রানি সিরিকিটের মরদেহ বর্তমানে এক বছরের জাঁকজমকপূর্ণ রাজকীয় শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শায়িত রয়েছে।

রানির পরামর্শে প্রজনন হয়েছিল ১০০-এর বেশি রাজহাতির
রানি সিরিকিটের প্রতি এই হাতিদের বিশেষ অনুরাগের কারণটিও তুলে ধরেন লাইটোংরিয়ান মিপান। তিনি জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তিনি হাতির যত্নে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন এবং এর পিছনে প্রেরণা ছিলেন স্বয়ং রানি। লাইটোংরিয়ান বলেন, রানির পরামর্শে এ পর্যন্ত ১০০-এরও বেশি রাজহাতির প্রজনন হয়েছে।

লাইটোংরিয়ান মিপান বলেন, “মহারানী আমাকে সাক্ষাৎ দিয়েছিলেন এবং হাতি পালনের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। আজ আমরা তাঁর সামনে দেখাতে এনেছি যে শাবকগুলো তাঁর নির্দেশ মেনে চলে।”

রানির মৃত্যুতে থাই সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য এক বছরের শোকাবস্থা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি, সাধারণ জনগণকে ৯০ দিনের জন্য কালো বা সাদা রঙের শোকের পোশাক পরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।