‘আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব উনি ভালো আছেন?’, ইমরান খানের মৃত্যু গুজব নিয়ে উত্তাল পাকিস্তান, জেল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতেও কাটছে না সংশয়

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান খানকে ঘিরে ওঠা মৃত্যুর গুঞ্জন বুধবার সকাল থেকেই সে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জল্পনা আগুনের মতো ছড়ালেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানায়, ইমরান খান সম্পূর্ণরূপে সুস্থ রয়েছেন এবং তাঁকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে।

বোনের বিস্ফোরক অভিযোগ: ‘বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে’
জেল কর্তৃপক্ষের আশ্বস্তকারী বার্তাতেও উদ্বেগ প্রশমিত হয়নি। ইমরানের বোন আলিমা খান সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় জেল প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ওঁর মাথার একটা চুলও স্পর্শ করতে পারবে না ওরা।”

আলিমার মূল অভিযোগগুলি হলো:

বিচ্ছিন্নতা: গত ছয় সপ্তাহ ধরে ইমরানকে একটি আলাদা সেলে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্যের অবস্থা: তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে শেষবার যখন পরিবার তাঁকে দেখেছিল, তখন তাঁর স্বাস্থ্য ছিল ‘চমৎকার’।

আদালত অবমাননা: তাঁকে আলাদা করে রাখার সিদ্ধান্তকে তিনি আদালত অবমাননা বলেও অভিযোগ করেন।

বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা: আলিমার অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং ভালো বিচারক থাকলেও তাঁদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা ইমরানের মামলার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

জনরোষের সতর্কবার্তা
পরিবারের উদ্বেগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানান আলিমা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব উনি ভালো আছেন? তিন সপ্তাহ ধরে কোনও সাক্ষাৎ নেই, কেউই তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারছে না।” তাঁর সতর্কবার্তা, “যদি ওঁর কিছু হয়ে যায়, আপনারা কি মনে করেন পাকিস্তানের মানুষ চুপ করে থাকবে?” তাঁর এই মন্তব্য পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

সরকারের বক্তব্য
অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারের তরফে এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, ইমরান খান নিরাপদেই রয়েছেন। সরকারের দাবি, তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে সামান্যতম অবহেলা করা হচ্ছে না এবং সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁকে জেলে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য—রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে এই ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

ইমরান খানের মৃত্যুর গুঞ্জন থামলেও, তাঁকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগের কারণে সংশয় এখনও কাটছে না।