এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্যেই নবান্নের বড়সড় রদবদল, ১০ জেলার পুলিশ সুপার বদলি, সিইও-র দফতরকে দেওয়া হলো আর্থিক ক্ষমতা

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া যখন জোরকদমে চলছে, ঠিক তখনই রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে বড়সড় রদবদল করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে মোট ১০টি জেলার পুলিশ সুপার, বেশ কয়েকজন ডেপুটি কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও আইবি-র সিনিয়র আধিকারিকদের দায়িত্বে পরিবর্তন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসন্ন নির্বাচন এবং রাজ্যের প্রশাসনিক গতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই জোড়া সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

মালদা ও পূর্ব মেদিনীপুরে আলোচিত বদলি
সবচেয়ে আলোচিত রদবদল হয়েছে মালদা জেলায়। সেখানে শাসকদলের নেতা-কর্মী খুন ও পুলিশের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগের আবহে পুলিশ সুপার প্রদীপ যাদবকে উত্তর দিনাজপুর জেলার ট্র্যাফিক পুলিশের সুপার পদে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় মালদার নতুন এসপি হচ্ছেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরেও বড় রদবদল ঘটেছে। জেলার পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্যকে বদলি করা হয়েছে বাঁকুড়ার এসপি পদে। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাউকে করা হয়নি, ফলে পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি পদটি আপাতত শূন্য। এছাড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) নিখিল আগরওয়ালকে বদলি করা হয়েছে বাঁকুড়ায়।

উত্তর-দক্ষিণবঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বদলি
নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামের এসপি অরিজিৎ সিংহকে পদোন্নতি দিয়ে মেদিনীপুর রেঞ্জের ডিআইজি করা হয়েছে। বাঁকুড়ার এসপি বৈভব তিওয়ারি হচ্ছেন পুরুলিয়ার এসপি। উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ারের এসপি ওয়াই রঘুবংশী এখন জলপাইগুড়ির নতুন পুলিশ সুপার। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার এসপি সানা আখতারকে পাঠানো হয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসি (ওয়েস্ট জ়োন) পদে। দক্ষিণবঙ্গে, বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি পলাশচন্দ্র ঢালিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি হিসেবে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি ধৃতিমান সরকারকে ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের সিনিয়র সুপার পদে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিইও দফতরে বাড়তি আর্থিক ক্ষমতা
পুলিশি রদবদলের পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ দফতর। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সিইও প্রশাসনিক ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ প্রকল্পের খরচ মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং প্রধান সচিবের সমতুল্য ক্ষমতা ভোগ করবেন। রাজ্যপালের সম্মতির পরই এই নির্দেশিকাটি কার্যকর হয়েছে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে লাল ফিতের ফাঁস অনেকটাই আলগা হবে, যা আসন্ন নির্বাচনগুলির প্রস্তুতি পর্বকে দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।

নবান্নের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করতে এবং প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার স্বার্থেই এই ব্যাপক পরিবর্তন ও ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।