আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের মৃত্যু গুজব! দেখা না করতে দেওয়ায় বোনেদের মারধরের অভিযোগ, পাকিস্তান জুড়ে চরম উত্তেজনা

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের প্রাক্তন অধিনায়ক এবং প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল গুজব ছড়িয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি থাকার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ অজানা। এই রহস্যময় পরিস্থিতিতে কিছু কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল (যেমন ‘আফগান টাইমস’) কারাগারে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করে। যদিও কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ সংস্থা এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি, তবুও এই গুজবে পাকিস্তানজুড়ে তীব্র আতঙ্ক এবং চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বোনেদের উপর পুলিশি হামলা ও বিক্ষোভ
ইমরান খানকে নিয়ে সৃষ্ট এই উত্তেজনার মধ্যেই আদিয়ালা কারাগারের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে না পারায় ইমরানের তিন বোন— নূরীন নিয়াজি, আলীমা খান এবং ড. উজমা খান— শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন।
পুলিশি বর্বরতা: ইমরান খানের বোনেদের অভিযোগ, কোনো রকম প্ররোচনা ছাড়াই পুলিশ তাঁদের এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থকদের উপর নির্মমভাবে চড়াও হয়। বোন নূরীন নিয়াজি অভিযোগ করেন যে, তাঁর চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল এবং মারধর করা হয়। এই ঘটনায় ইমরানের বোনেদের গুরুতর আঘাত লাগে।
সমর্থকদের ক্ষোভ: পুলিশি হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই পিটিআই-এর হাজার হাজার সমর্থক আদিয়ালা জেলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
গুজবের কারণ: সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন ৭২ বছর বয়সী ইমরান খান। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে এমনিতেই উদ্বেগ রয়েছে। তাঁর বোনরা অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখা হয়েছে।
পিটিআই-এর দাবি: পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ইমরান খানকে অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বই, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা করার অনুমতি মিলছে না।
এই তথ্য প্রবাহের অভাব এবং তিন সপ্তাহ ধরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার কারণেই ইমরানের স্বাস্থ্য ও জীবন নিয়ে গুজব দ্রুত গতিতে বাড়ছে এবং তা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে টপ ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে।