চন্দ্রহাসের ব্যাটে ইতিহাস, কোচবিহার ট্রফিতে বাংলার পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বাধিক ৩৩২ রান করে শিরোনামে ‘সেঞ্চুরিহাস’ দাস

বাংলার ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন তারা উদয় হলেন। কোচবিহার ট্রফিতে (Cooch Behar Trophy) চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক চন্দ্রহাস দাস নিজেকে ‘সেঞ্চুরিহাস’ নামেই যেন প্রতিষ্ঠিত করলেন। সোমবার কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট আকাদেমি মাঠে ৩১৯ বলে ৩৩২ রানের এক বিশাল ইনিংস খেলে তিনি বাংলার ব্যাটারদের মধ্যে ব্যক্তিগত সর্বাধিক রানের রেকর্ড গড়লেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫৩টি চার ও ১০টি ছক্কা।

এর আগে অসমের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেও তিনি তিনে নেমে ১৭২ বলে ১২৪ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছিলেন।

ঐতিহাসিক ইনিংসের পর চন্দ্রহাস: নিজের রেকর্ড গড়া ইনিংসের পর সিএবি মিডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দ্রহাস বলেন, “সুযোগ কাজে লাগাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কোনো টার্গেট ছিল না, বল অনুযায়ী খেলে গিয়েছি। লুজ বল পেতেই শট খেলেছি, তাতেই মাইলস্টোন এলো। তবে আগামী ইনিংসেও নতুনভাবে শুরু করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই।”

আট বছর বয়সে ক্রিকেট শুরু করা চন্দ্রহাস এই সাফল্যের জন্য তাঁর কোচ ও পরামর্শদাতা—কাঞ্চন স্যর, রাজীব গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরাশিস লাহিড়ী এবং সঞ্জীব সান্যালদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিরাট কোহলির ভক্ত এই তরুণ ভবিষ্যতে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ পেতে আগ্রহী।

কোচ সৌরাশিস লাহিড়ীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ: বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হেড কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী তাঁর অধিনায়কের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তিনি বলেন:

“আমি ২ বছর ধরে চন্দ্রহাসকে দেখছি। অধিনায়ক হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। খুব পরিশ্রমী, ফিট। কঠোর পরিশ্রমেরই সুফল পাচ্ছে। অনূর্ধ্ব-১৯ ব্যাটার ত্রিশতরান হাঁকাচ্ছে এটা সচরাচর দেখা যায় না। চন্দ্রহাসের সামনে গ্রেট কেরিয়ার অপেক্ষা করছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা আছে।”

লাহিড়ী জানান, গতবারের চেয়ে চন্দ্রহাসের খেলায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি টেকনিক্যাল পরিবর্তন এনেছেন এবং এখন মানসিকভাবে অনেক বেশি রিল্যাক্সড থেকে ফল নিয়ে না ভেবে প্রক্রিয়ায় জোর দিচ্ছেন।

ম্যাচের পরিস্থিতি: কোচবিহার ট্রফির এই ম্যাচে বাংলা ৭ উইকেটে ৬২৮ রান তুলে প্রথম ইনিংস ডিক্লেয়ার করে। চন্দ্রহাস দাস ৩৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। জবাবে চণ্ডীগড় তাদের প্রথম ইনিংসে রোহিত-অগস্ত্যদের দাপটে মাত্র ১২২ রানে গুটিয়ে যায়। রোহিত ৯ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন। ফলো অনে পড়ে চণ্ডীগড় এখন ইনিংস হারের মুখে। কালই জয় ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর বাংলা শিবির।