দেশজুড়ে ‘ধর্ম অবমাননা’র অজুহাতে হামলা-মামলা বন্ধের দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ২৫৮ নাগরিকের

মানিকগঞ্জে পালাকার আবুল সরকারের গ্রেপ্তার এবং প্রতিবাদী অনুসারীদের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন শিক্ষক, লেখক, গবেষক, শিল্পী ও সাংবাদিকসহ মোট ২৫৮ জন নাগরিক। ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে দেশজুড়ে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার এবং ‘মব-সহিংসতা’ (Mob Violence) বন্ধের জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে গ্রেফতারকৃত পালাকার আবুল সরকারের অবিলম্বে মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, লেখক মানস চৌধুরী সহ বহু বিশিষ্ট নাগরিকের স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একটি ‘বিশেষ গোষ্ঠী’ ইসলাম ধর্মের ‘সোল-এজেন্ট’ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে।
বিবৃতিতে উঠে আসা উদ্বেগের কারণগুলি:
হিংসার ধরন: দুই শতাধিক মাজার ভাঙা, বহু ব্যক্তিকে ‘মুরতাদ’, ‘কাফের’ বা ‘শাতিম’ ঘোষণা করা, কবর থেকে লাশ তুলে পোড়ানো।
বাউল ও নারীদের ওপর হামলা: রাস্তার জটাধারী বাউল-ফকিরদের ধরে চুল কেটে দেওয়া এবং নারীদের চলাচল ও পোশাক নিয়ে হেনস্তা করা।
লক্ষ্য: নাচগান-নাটকের অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও মেলার মতো আয়োজন পণ্ড করার মধ্য দিয়ে ভিন্নমত ও ভিন্ন-আচারের মানুষদের নির্মূল করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য।
বিবৃতিদাতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ‘মব সন্ত্রাস’ বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না; বরং তারা শুরু থেকেই নীরবতা অবলম্বন করে ঘটনার প্রশ্রয় দিচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেড় বছর পরও সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে, নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ‘ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে’। এর ফলে গণতন্ত্রমনা মানুষের হতাশা বাড়ছে এবং পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি হচ্ছে। এটি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে সম্ভাব্য ধর্মীয় উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।