বিতর্কে মোড়া প্রেমজীবন, হেমা মালিনীর সঙ্গে বিয়ের পরেও ২৭ বছরের ছোট অনিতা রাজের প্রতি ধর্মেন্দ্রর ‘অত্যন্ত আকর্ষণ’

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে ধর্মেন্দ্র (Dharmendra) নামটা যতদিন থাকবে, ততদিনই তাঁর বর্ণময় ব্যক্তিগত জীবনও চর্চায় থাকবে। পর্দার ‘রোম্যান্টিক নায়ক’ এবং অফ-স্ক্রিনের ‘বেপরোয়া প্রেমিক’ হিসেবে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। সোমবার এই কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণের পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সেই সব বিতর্কিত অধ্যায় আবার উঠে এল আলোচনায়।

বলিউডে প্রবেশের আগে পঞ্জাবের প্রকাশ কউরকে বিয়ে করেছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেই সংসারে সানি, ববি, বিজেতা ও অজিতা নামে চার সন্তান নিয়ে ছিমছাম পারিবারিক জীবন ছিল তাঁর। কিন্তু সত্তরের দশকে ছবি করতে গিয়ে হেমা মালিনীর (Hema Malini) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় এবং সেই সম্পর্ক দ্রুত প্রেমে গড়ায়। সেই প্রেম এতটাই গভীর ছিল যে, ধর্মেন্দ্র প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না করেই হেমাকে বিয়ে করেন। জন্ম হয় তাঁদের দুই কন্যা এষা ও অহনা।

ধর্মেন্দ্র এবং হেমার জুটি দর্শকদের কাছে আদর্শ দম্পতি হিসেবে জনপ্রিয়তা পেলেও, পর্দার আড়ালে তাঁদের দাম্পত্যে টানাপড়েন ছিল চিরকাল। সেই টানাপড়েনের মাঝেই গুঞ্জন ওঠে, বিয়ের মাত্র দু’বছরের মধ্যেই ধর্মেন্দ্র নাকি নতুন করে আকৃষ্ট হয়েছেন অভিনেত্রী অনিতা রাজের (Anita Raj) প্রতি।

অনিতা রাজ ধর্মেন্দ্রর চেয়ে সাতাশ বছরের ছোট ছিলেন এবং সেই সময় বলিউডের অন্যতম ব্যস্ত নায়িকা ছিলেন তিনি। শোনা যায়, অনিতা রাজের প্রতি ধর্মেন্দ্রর আকর্ষণ এতটাই প্রবল হয়েছিল যে তা ছবির সেটেও লুকানো যাচ্ছিল না।

এই খবর কানে পৌঁছয় হেমা মালিনীর। তিনি ব্যাপারটা একেবারেই ভালোভাবে নেননি। গুঞ্জন ছিল, হেমা স্পষ্ট ভাষায় ধর্মেন্দ্রকে নির্দেশ দেন— অনিতা রাজের সঙ্গে তাঁকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ব্যক্তিজীবনের বিতর্ক তিনি কখনও প্রকাশ্যে না আনলেও, এই ঘটনার পর তিনি নাকি আরও সতর্ক হয়ে ওঠেন। এরপর অচিরেই চাপা পড়ে যায় অনিতা-ধর্মেন্দ্রর প্রেমের গুঞ্জন।

হেমা মালিনী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জীবন কখনও সহজ ছিল না, কিন্তু শ্রদ্ধা আর ভালবাসা থাকলে সব মানিয়ে নেওয়া যায়। নিজের সম্পর্কের লড়াই তিনি নিজের মধ্যেই সামলে রেখেছিলেন। সোমবার সেই ভালবাসার বন্ধন ছিন্ন করে চলে গেলেন ধর্মেন্দ্র।