বীরভূমে ধুন্ধুমার, কৃষকের ক্ষোভে উত্তাল বোলপুর কৃষক বাজার, সরকারি আধিকারিককে মারধরের অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

ধান বিক্রির ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) নিয়ে গড়মিলের অভিযোগ ঘিরে সোমবার বীরভূমের বোলপুর কৃষক বাজার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে এক তৃণমূল নেতা পুলিশের সামনেই এক সরকারি আধিকারিককে কলার ধরে মারধর করেছেন। ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ধান কেনাবেচা বন্ধ থাকে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনায় অভিযুক্ত হলেন রায়পুর-সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিদাপুর গ্রামের তৃণমূল নেতা তথা চাষি কাজল মোল্লা। তাঁর নেতৃত্বে সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রের আধিকারিক জামাল হোসেনকে টেনে-হিঁচড়ে অফিস থেকে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ক্ষোভের কারণ কী? কৃষকদের মূল অভিযোগ ছিল দুটি:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন চাষির কাছ থেকে একবারে ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান কেনা যাবে না। বেশি বিক্রি করতে হলে দ্বিতীয়বার আসতে হবে, যা নিয়ে কৃষকদের আপত্তি ছিল।
ধানের ওজনের ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৪ কেজি করে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন চাষিরা।
আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন দাবি করে বিক্ষোভরত কৃষকদের নেতৃত্ব দেন কাজল মোল্লা। তিনি বলেন, “ধান কেনার ক্ষেত্রে অনেকটা কেটে নেওয়া হচ্ছিল। একবারে বেশি ধান না-নিলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে, কারণ দু’বার করে ধান গাড়িতে চাপাতে বেশি শ্রমিক খরচ দিতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের কৃষি আধিকারিক শেখ জসিমউদ্দিন জানান, “চাষিদের বুঝতে ভুল হয়েছিল। সরকারি নিয়ম বোঝানোর পর সব স্বাভাবিক হয়।”
তবে, সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই মারধরের ঘটনা ঘটলেও, উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী না-থাকায় পরিস্থিতি আটকানো সম্ভব হয়নি।