সিম ব্যবহার করে অপরাধ হলে দায় সিমের মালিকেরই! সাইবার অপরাধ রুখতে কড়া নির্দেশ দিল ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকম (ডট)!

সাইবার অপরাধের বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বড় এবং কড়া পদক্ষেপ করল ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকম (DoT) বা ডট। সম্প্রতি জারি করা এক বিবৃতিতে ডট স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে সিম ব্যবহার করে যে কোনও ধরনের অপরাধমূলক কাজ হলে, যাঁর নামে সিম নথিভুক্ত, তাঁকেই তার দায় নিতে হবে। সিমের মালিকের অজান্তে অপরাধ হয়েছে—এই যুক্তিতে কোনও রেহাই মিলবে না।ডট জানিয়েছে, এমতাবস্থায় মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। সেই সঙ্গে EMI নম্বর বিকৃত করা হয়েছে, এমন ফোনের ব্যবহারও সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।ডটের নির্দেশাবলী: কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?বিবৃতিতে ডট সাইবার অপরাধের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে:ডটের নির্দেশাবলীকরণীয়বিকৃত EMI ফোন বন্ধEMI নম্বর বিকৃত করা হয়েছে এমন মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।’সঞ্চার সাথী’ ব্যবহারনতুন ফোন ব্যবহারের আগে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপের মাধ্যমে EMI নম্বরটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিতে হবে। ভরসাযোগ্য মনে না-হলে সেই ফোন ব্যবহারের আশা ছাড়তে হবে।বেআইনি সিম এড়িয়ে চলাবেআইনি পথে সিম কিনলে বিপদের আশঙ্কা অনেক বাড়বে।অন্যকে সিম না দেওয়ানিজের সিম অন্য কাউকে দেওয়া বা অন্য কারও নামে থাকা সিমের ব্যবহারও সম্পূর্ণ বন্ধ করা দরকার।মডেমের ক্ষেত্রে সতর্কতাশুধু ফোনের জন্য নয়, মডেমের ক্ষেত্রেও সিম ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।কলিং লাইন আইডেন্টিটি অ্যাপফোনে থাকা মোবাইল কলিং লাইন আইডেন্টিটি বা এই ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করলেও জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে ডট আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।আইনি সতর্কতাবিবৃতিতে ২০২৩ সালের দ্য টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট এবং ২০২৪ সালে তৈরি টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি রুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:EMI নম্বর বিকৃতিতে শাস্তি: টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্ট অনুসারে, EMI নম্বর বিকৃত করলে তিন বছর পর্যন্ত জেল এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।ডিভাইস তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা: টেলিকম সাইবার সিকিউরিটি রুল অনুযায়ী, EMI নম্বর বিকৃত করা যায় এমন কোনও ডিভাইস তৈরি করাও সম্পূর্ণ বেআইনি।ডটের এই পদক্ষেপ সাইবার অপরাধীদের দমনে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।