‘আমাকে ভোট দিন, আমি ডিকটেটর হব’, ২০০৪-এর নির্বাচনী প্রচারে বিতর্কিত মন্তব্যে ঝড় তুলেছিলেন ধর্মেন্দ্র! তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও উত্তরাধিকার!

হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র সোমবার মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে ৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডে ‘হি-ম্যান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন।
মাসখানেক আগেই অসুস্থতার কারণে তাঁকে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ৩১ অক্টোবর থেকে সেখানে চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফেরেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাড়িতে তাঁর পুনর্বাসন পর্ব চলবে। তবে সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে অনুরাগীদের ভিড় জমতে শুরু করে।
রাজনীতির ময়দানে ধর্মেন্দ্র
অভিনয়ের পাশাপাশি ধর্মেন্দ্রর আরেক পরিচয় ছিল— রাজনীতির ময়দানে বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ।
সাংসদ জীবন: ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি রাজস্থানের বিকানের কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং কংগ্রেস প্রার্থী রমেশ্বরলাল দুডিকে এক লক্ষেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে জয়ী হন। তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এক পূর্ণ মেয়াদে লোকসভার সদস্য ছিলেন।
বিতর্ক: বিজেপির সাংসদ হয়েও দিল্লির রাজনীতিতে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন তাঁর উপস্থিতি ছিল প্রায় অধরা। শ্যুটিং সেট বা নিজের ফার্মহাউসে তাঁকে বেশি দেখা যেত। এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে **’দায়িত্বে গাফিলতি’**র অভিযোগও উঠেছিল বিভিন্ন মহলে।
বিজেপির উত্তরাধিকার: ২০০৯ সালের পরে তিনি সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেও, তাঁর পরিবারের হাত ধরে রাজনীতিতে তাঁর উত্তরাধিকার বহমান থাকে। তাঁর ছেলে সানি দেওল ২০১৯-২৪ পর্যন্ত পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর থেকে বিজেপি সাংসদ ছিলেন, এবং স্ত্রী হেমা মালিনী ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনবার মথুরার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
‘ডিকটেটর’ বিতর্ক
২০০৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ধর্মেন্দ্রর একটি মন্তব্য বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। তিনি বলেছিলেন, “আমাকে ভোট দিন, আমি ‘ডিকটেটর’ (স্বৈরশাসক) হয়ে সমাজে নৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।” এই বক্তব্য ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে, পরে ধর্মেন্দ্র দাবি করেন, মন্তব্যটি ‘মজার ছলে’ করা হয়েছিল এবং সরাসরি অর্থে নেওয়া উচিত নয়।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে ভারতীয় বিনোদন জগতে এক যুগের অবসান হলো।