NIA আধিকারিক সেজে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা! শিলিগুড়িতে বিশাল চক্রের পর্দাফাঁস, তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার, ৭ দিনের পুলিশ হেফাজত

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র আধিকারিক পরিচয় দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকার প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট। বেশ কিছুদিন ধরেই এই চক্রটি সক্রিয় ছিল এবং অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তদন্তে নেমে বিশেষ তদন্তকারী দল তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG)-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে এই প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা হল— এহসান আহমেদ, রেহান বাবর এবং মানিক রায়। এহসান ও রেহান উত্তর দিনাজপুরের পাঞ্জিপাড়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শিলিগুড়ির সেবক রোড এলাকায় থাকছিল। অপর অভিযুক্ত মানিক শিলিগুড়ির বাসিন্দা।
গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়
পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি মেডিক্যাল মোড়ের বাসিন্দা রাহুল ঘোষ মাটিগাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, এনআইএ আধিকারিক পরিচয়ে তাঁকে ফোন করে গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে নগদ এক লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। রাহুলের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২২ নভেম্বর পুলিশ একটি মামলা রুজু করে।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করে। তল্লাশিতে অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি আই-২০ গাড়ি, একটি স্কুটার, ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও অভিযোগকারী রাহুল ঘোষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির ফোটোকপি এবং প্রতারণার মাধ্যমে আদায় করা নগদ ১৩ হাজার টাকাও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা।
বহুদিন ধরে সক্রিয় ছিল চক্রটি
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই প্রতারণাচক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় ছিল এবং নিজেদেরকে এনআইএ-র আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের নিশানা করত। পুলিশের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত থাকতে পারে।
ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন এবং সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাকেশ সিং বলেন, “এর আগেও এদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”