কর্তৃত্বের অপব্যবহার? জীবিত স্ত্রীকে মৃত দেখানোর অভিযোগে শো-কজ হলেন বিএলও শিক্ষক, উদ্বিগ্ন প্রশাসন

দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি ব্লকের এক স্কুল শিক্ষক তথা বিএলও (বুথ লেভেল অফিসার) স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বিএলও প্রভাকর মণ্ডলের বিরুদ্ধে জেলাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁর স্ত্রী টুম্পা দাস। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাগরদিঘি ব্লকের বিডিও অভিযুক্ত বিএলও-কে শোকজ করেছেন।
জানা গিয়েছে, পেশায় স্কুলশিক্ষক প্রভাকর মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী টুম্পা দাসের সাত বছর আগে বিয়ে হয়। দাম্পত্য অশান্তির কারণে তাঁরা গত ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আলাদা থাকছেন। টুম্পা দাসের অভিযোগ, সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তাঁর স্বামী প্রভাকর মণ্ডল সাগরদিঘি থানার পিলকির ১৪৯ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ দেখিয়েছেন, যার ফলে তাঁর এন্যুমারেশন ফর্ম আসেনি।
বিষয়টি জানতে পেরেই টুম্পা দাস তাঁর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক, জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক এবং সাগরদিঘির বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। টুম্পা দাস আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন: “আমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেই ভোটার তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। স্বামীকে জিজ্ঞেস করায় আমাকে বলল, ‘আমার কাছে তুমি মৃত, তাই তোমার নাম ডিলিট করে দিয়েছি’।” টুম্পা আরও জানিয়েছেন, তাঁর পাঁচ বছরের ছেলেকে জোর করে স্বামী নিজের কাছে রেখেছেন এবং এই নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে জঙ্গিপুরের মহকুমাশাসক গাদ্দাম সুধীর কুমার রেড্ডি দ্রুত সাগরদিঘির বিডিও-কে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। সাগরদিঘির বিডিও শীতাংশুনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, “জীবীত স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে কেন তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তার উত্তর চেয়ে ওই বিএলও-কে শো-কজ করা হয়েছে।”
এদিকে, অভিযুক্ত প্রভাকর মণ্ডল যোগাযোগ করা হলে দাবি করেছেন, “টুম্পা দাসকে ভুল করে মৃত দেখিয়ে ফেলেছি। আমার ভুল হয়েছে।” যদিও তাঁর বিরুদ্ধে আনা ‘খুনের ষড়যন্ত্র’ ও ক্ষমতা অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। বর্তমানে প্রশাসনকে শোকজের জবাবে তিনি কী ব্যাখ্যা দেন, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।