রাজগঞ্জের বিডিও কি খুনি? স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় ৪ জন গ্রেফতার, বিডিও-র ফ্ল্যাটেই ‘টর্চার’, কখন গ্রেফতার হবেন প্রশান্ত বর্মন?

নিউ টাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় ধৃত অন্যতম অভিযুক্ত বিবেকানন্দ সরকার জেরায় স্বীকার করেছে যে, রাজগঞ্জের বিডিও (ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার) প্রশান্ত বর্মনের নির্দেশেই ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয় এবং ফ্ল্যাটে এনে মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, যাত্রাগাছিতে স্বপন কামিল্যার দেহ লোপাটের সময়ও অভিযুক্ত বিডিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেছে ধৃত বিবেকানন্দ।
এর আগে এই ঘটনায় কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বিবেকানন্দ সরকার সজলেরই গাড়ির চালক। পুলিশকে জেরায় সে জানিয়েছে, সজলের নির্দেশেই সে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
বিবেকানন্দ জেরায় স্বীকার করেছে, গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেকের দত্তাবাদ থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে নিউ টাউনে বিডিও-র ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই বিডিও-র নির্দেশেই মারধর শুরু হয়। বিবেকানন্দের দাবি, বিডিও প্রশান্ত বর্মন তাকেও মারধর করার নির্দেশ দেন। মারধরে ব্যবহার করা হয়েছিল লাঠি, লোহার রড এবং বেল্ট। ধৃত যুবকের দাবি, বিডিও নিজেও ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর করেন এবং মারধরের সময়েই স্বপন কামিল্যার মৃত্যু হয়।
ধৃত যুবক আরও জানিয়েছে, নিউ টাউনের যাত্রাগাছিতে যখন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ ফেলা হচ্ছিল, তখন বিডিও প্রশান্ত বর্মন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর নির্দেশেই মারধরে ব্যবহৃত লাঠি, লোহার রড ও বেল্ট লোপাট করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে বিডিও-র কলকাতার গাড়ির চালক রাজু ঢালিকে গ্রেফতার করে। তার মোবাইল ফোন থেকে মারধরের ঘটনার ডিলিট করে দেওয়া একটি ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিডিও ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মাটিতে ফেলে তাঁর বুকে পা তুলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিডিও-র বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া গয়না স্বপন কামিল্যার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই গয়নার সন্ধানেই বিডিও আগস্ট মাসে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দাঁতনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।
স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে হত্যার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বয়ানের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ভিডিও এবং সিসিটিভি ফুটেজেরও মিল খুঁজে পাওয়ায় তদন্তের জাল দ্রুত গুটিয়ে আনছে পুলিশ। অভিযুক্ত বিডিও প্রশান্ত বর্মন কতদিন পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।