দিল্লির বিস্ফোরণ ও সীমান্তের কাঁটা! শিলিগুড়িতে ১৮টি নিরাপত্তা সংস্থার রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নজরদারিতে AI-এর ব্যবহার শুরু

প্রতিবেশী দেশগুলিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। এই স্পর্শকাতর এলাকার সুরক্ষা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

শনিবার শিলিগুড়ির কেন্দ্রীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) কার্যালয়ে স্টেট সাবসিডারি মাল্টি এজেন্সি সেন্টার (SMAC)-এর এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সূত্র মারফত খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই এই করিডোরের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল সেফটি কমিশনার সন্দীপ কুমার পিএস বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল। উত্তরবঙ্গের সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থা এখানে উপস্থিত ছিল। মূল বিষয় ছিল শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা এবং প্রত্যেক সংস্থা তাদের নজরদারি সংক্রান্ত পরামর্শ রেখেছে।” শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর অবশ্য এটিকে ‘রুটিন বৈঠক’ বলে উল্লেখ করে এর বিশদ আলোচনা প্রকাশ্যে আনতে চাননি।

কেন নিরাপত্তা দ্বিগুণ?

উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ একাধিক আন্তর্জাতিক সীমান্তের কেন্দ্রে অবস্থিত, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা বজায় থাকায় ঝুঁকি বাড়ছে।

  • অনুপ্রবেশ: গত দু’মাসে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত থেকে ৪১ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে এসএসবি। এর মধ্যে ৩ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য সন্দেহে বাগডোগরার ব্যাঙডুবি সেনা ছাউনি থেকে আটক হয়েছে।

  • সীমান্ত অপরাধ: গত তিনমাসে ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় গরুপাচারকারী ও অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে বিএসএফ।

  • কেন্দ্রের নির্দেশ: দিল্লির বিস্ফোরণের ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সীমান্তের শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

SMAC বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

এদিনের SMAC বৈঠকে CISF, BSF, SSB, ITBP, RPF, ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা, মিলিটারি পুলিশ, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, GRP সহ প্রায় ১৮টি নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • নিরাপত্তা দ্বিগুণ: ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • প্রযুক্তি ব্যবহার: ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স ও প্রযুক্তিগত নজরদারিতে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাগডোগরা বিমানবন্দরে ইতিমধ্যেই যাত্রীদের তথ্য যাচাইয়ে AI (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ব্যবহার শুরু করেছে CISF।

  • গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি: NJP, শিলিগুড়ি জংশন, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার রেল স্টেশনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রাজধানী, বন্দে ভারতের মতো দূরপাল্লার ট্রেনে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • সীমান্ত টহল: ইন্দো-নেপাল ও ইন্দো-ভুটান সীমান্তে এসএসবি এবং ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ অতিরিক্ত জওয়ান মোতায়েন করেছে। কাঁটাতারহীন সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। ইন্দো-বাংলাদেশ সীমান্তে বসানো হচ্ছে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিডার মেশিন।

  • তথ্য আদানপ্রদান: দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রত্যেক নিরাপত্তা সংস্থাকে নিজেদের মধ্যে আদানপ্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিভিশনাল সেফটি কমিশনার সন্দীপ কুমার পিএস বলেন, “সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও মহাসড়কের সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনগুলোর নজরদারি বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে। যদিও সব তথ্য সংবাদমাধ্যমে বলা সম্ভব নয়, তবে দিল্লির বিস্ফোরণের পর আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়েছি এবং গোয়েন্দা বিভাগকেও আরও সক্রিয় করা হয়েছে।”