তিনবার সিঁদুরদানের রহস্য! এক, দুই, তিন… কেন মোট তিনবার কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরান বর?

ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিবাহ শুধু একটি বন্ধন নয়, একটি পবিত্র অনুষ্ঠানও। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং আবেগময় মুহূর্ত হল সিঁদুরদান (Sindoor)। হিন্দু বিবাহিত নারীর কাছে সিঁদুর তাঁর বৈবাহিক জীবনের প্রতীক এবং স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার প্রকাশ। এই প্রথা পালনের সময় লক্ষ্য করা যায়—বর কনের সিঁথিতে মোট তিনবার সিঁদুর পরান। কেন এই শুভ কাজটি একবারের বদলে তিনবার করা হয়? এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ধর্মীয় কারণ এবং তিন দেবীশক্তির আশীর্বাদ লাভের তাৎপর্য।
পণ্ডিত ও শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা জানান, তিনবার সিঁদুরদানের মাধ্যমে নবদম্পতি তাঁদের জীবনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দেবী শক্তির আশীর্বাদ লাভ করেন:
প্রথম বার সিঁদুর: দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ (সম্পদ ও সুখ) প্রথমবার সিঁদুর দানের সম্পর্ক হল ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মীর সঙ্গে। মনে করা হয়, এই সিঁদুরদানের মাধ্যমে নতুন দম্পতির জীবনে সুখ, প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধি আসে। তাঁদের দাম্পত্য জীবন যেন আনন্দে ভরে ওঠে, সেই কামনাই করা হয়।
দ্বিতীয় বার সিঁদুর: দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ (জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) দ্বিতীয়বার সিঁদুর দানের সম্পর্ক হল বিদ্যা, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার দেবী সরস্বতীর সঙ্গে। এই প্রতীকী পদক্ষেপটি বোঝায় যে, বিবাহিত জীবনে শুধু ভালোবাসা নয়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা (প্রজ্ঞা) থাকা প্রয়োজন। দেবী সরস্বতীর কাছে সেই আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হয়।
তৃতীয় বার সিঁদুর: দেবী পার্বতীর আশীর্বাদ (শক্তি ও সুরক্ষা) তৃতীয় ও শেষবারের সিঁদুর দানের সম্পর্ক হল শক্তির দেবী পার্বতীর সঙ্গে। এই সিঁদুর দম্পতিকে সকল প্রকার খারাপ শক্তি, বিপদ বা সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এটি নবদম্পতিকে কঠিন সময়ে একসঙ্গে লড়াই করার শক্তি এবং সাহস জোগায়।
সিঁদুর নাকে পড়া শুভ কেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, বরের হাত থেকে সিঁদুর পরানোর সময় তা যদি কনের নাকের ওপর বা সামান্য নিচে এসে পড়ে, তবে এটিকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি নবদম্পতির জন্য শুভ ফল নিয়ে আসে বলে মনে করা হয়।
এছাড়াও প্রচলিত রয়েছে যে, কনেকে অন্তত এক বছর সেই একই সিঁদুর ব্যবহার করা উচিত, যা তাঁর বিবাহের সময় পরানো হয়েছিল। এতে বর ও কনের মধ্যে ভালবাসা চিরকাল অটুট থাকে। এই প্রথাগুলি ভারতীয় বিবাহের গভীর বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক সংযোগের প্রতিফলন।